সূচিপত্র
আমাদের মৌলিক চাহিদা পাঁচটি, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা। এর মধ্যে প্রথম তিনটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে পূরণ করে উদ্ভিদজগত, আর চতুর্থটিরও সিংহভাগ আসে সেখান থেকে। অথচ উদ্ভিদবিজ্ঞান নামটা শুনলেই অনেকের মনে হয় বিষয়টা বুঝি শুধু গাছপালা নিয়ে পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ধারণাটা সম্পূর্ণ ঠিক না, এই একটা সাবজেক্টের ছাতার নিচে মাইক্রোবায়োলজি থেকে বায়োইনফরম্যাটিক্স পর্যন্ত বিশাল একটা ক্ষেত্র লুকিয়ে আছে। এই উদ্ভিদবিজ্ঞান সাবজেক্ট রিভিউতে কারিকুলাম, ভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয় আর ক্যারিয়ার, সবকিছুর হালনাগাদ চিত্র থাকছে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান সাবজেক্ট রিভিউ: সংক্ষেপে যা জানা দরকার
- কী পড়ানো হয়: শুধু গাছপালা না, মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি, ইকোলজি, প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজি সহ প্রায় ৩০টি শাখা
- ভর্তি: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC, জীববিজ্ঞান ও রসায়নে ভালো ভিত্তি জরুরি
- কোথায় পড়বেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রায় সব বিজ্ঞান-ভিত্তিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ
- ক্যারিয়ার: গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও পরিবেশ দপ্তর, ওষুধ কোম্পানির R&D, শিক্ষকতা, বিসিএস
- বেতন: সরকারি গবেষণা/বিসিএস ক্যাডারে ৯ম গ্রেডে শুরুতে সর্বসাকুল্যে আনুমানিক ৳৩৫,০০০-৪৫,০০০, বেসরকারি খাতে পদভেদে ভিন্ন
উদ্ভিদবিজ্ঞানে আসলে কী পড়ানো হয়
অনার্স কোর্সে ঠিক কোন কোন দিক নিয়ে পড়াশোনা করানো হয় তার একটা তালিকা দেখে নেওয়া যাক:
- Microbiology
- Mycology
- Phycology
- Higher Cryptogams
- Angiosperms Taxonomy
- Biodiversity
- Basic Biochemistry
- Gymnosperms
- Economic Botany
- Paleobotany
- Plant Anatomy
- Plant Ecology
- Cytology
- Plant Physiology
- Classical Genetics
- Plant Breeding
- Biostatistics
- Soil Chemistry and Soil Fertility
- Plant Pathology
- Plant Biochemistry
- Molecular Genetics
- Limnology
- Cytogenetics
- Embryology of Angiosperms
- Plant Nutrition
- Ethnobotany
- Horticulture
- Plant Biotechnology
- Bioinformatics
তালিকাটা দেখলেই বোঝা যায়, শুধু গাছপালার শারীরস্থান মুখস্থ করার বিষয় এটা না, বরং রসায়ন, জেনেটিক্স, কম্পিউটেশনাল বায়োলজি পর্যন্ত ছড়ানো একটা সাবজেক্ট।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের চারটি প্রধান শাখা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের দুই শাখা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে রয়েছে দুটো পৃথক শাখা, Biotechnology এবং Environmental Biology। এই দুই শাখার অধীনে Plant Genetic Engineering, Plant Biotechnology, Plant Tissue Culture, Microbial Genetics, Molecular Genetics, Microbial Biotechnology, Environmental Microbiology, Cytogenetics, Plant Pathology, Seed Pathology, Applied Mycology, Applied Phycology, Hydrobiology, Ecology, Advanced Physiology, Limnology, Taxonomy, Ethnobotany, Medicinal and Herbal Plants এর মতো যেকোনো একটা ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ থাকে।
যাদের একান্তই ইচ্ছা ছিল Microbiology, Biotechnology বা Genetic Engineering-এর মতো বিভাগে পড়ার, তারা উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েও পরবর্তীতে মাস্টার্স বা আরও উচ্চতর পর্যায়ে, দেশে এবং দেশের বাইরে, এসব বিষয়ে অধ্যয়ন এবং বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সেমিনার লাইব্রেরি এবং উন্নত সুবিধাসম্পন্ন গবেষণাগার।
উপরের অংশটুকু মূল লেখার প্রায় হুবহু রূপ, যেটা লিখেছিলেন মাহমুদ হাসান কল্লোল, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিভাগের ভেতরের বাস্তব চিত্র বাইরে থেকে লেখা যায় না বলে তার এই বর্ণনা প্রায় অক্ষত রাখা হয়েছে।
ভর্তি ও যোগ্যতা
উদ্ভিদবিজ্ঞান পড়তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক, জীববিজ্ঞান ও রসায়নে ভালো ভিত্তি থাকা জরুরি। অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার (GST) মাধ্যমে বিজ্ঞান ইউনিটে সুযোগ মেলে, পরে মেধাক্রম ও পছন্দের ভিত্তিতে বিষয় বরাদ্দ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা থাকে, বিজ্ঞান ইউনিটের মাধ্যমে। প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট ইউনিট, নম্বর বণ্টন ও ন্যূনতম জিপিএর শর্ত বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে হালনাগাদ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি। GPA হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আমাদের জিপিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
বাংলাদেশে কোথায় পড়া যায়
| বিশ্ববিদ্যালয় | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ১৯৩৯ সালে, দেশের সবচেয়ে পুরনো বিভাগগুলোর একটি |
| রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | বিজ্ঞান অনুষদের অন্যতম পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত বিভাগ |
| চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় | উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত ১৯৭৪ সালে |
| জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় | M.Phil ও PhD পর্যায়েও প্ল্যান্ট সায়েন্সে সুযোগ আছে |
| জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ | যেমন ঢাকা কলেজ, ১৯৯৭-৯৮ সাল থেকে B.Sc অনার্স চালু |
প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা প্রতি বছর কিছুটা বদলাতে পারে, তাই ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সবশেষ তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
ক্যারিয়ার সুযোগ ও বেতন
যেহেতু এটা একটা মৌলিক গবেষণাধর্মী বিষয়, স্বাভাবিকভাবেই এর প্রধান ক্ষেত্র গবেষণা। এর বাইরেও কাজের সুযোগ আছে চা বাগান, রাবার বাগান, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রে (ধান, পাট, ইক্ষু ইত্যাদি), ওষুধ তৈরির কোম্পানিগুলোর R&D বিভাগে, মাশরুম উৎপাদন কেন্দ্রে, বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষকতা আর বিসিএসের দরজাও সবসময় খোলা।

যেহেতু এই ক্যারিয়ার পথের বড় অংশটা সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিসিএস কারিগরি/সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মধ্য দিয়ে যায়, বেতনের একটা নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হলো জাতীয় বেতনস্কেল। ৯ম গ্রেডে (সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পর্যায়) শুরুতে সর্বসাকুল্যে বেতন সাধারণত আনুমানিক ৳৩৫,০০০-৪৫,০০০ এর মধ্যে থাকে। বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি বা বীজ কোম্পানির R&D-তে শুরুর বেতন প্রতিষ্ঠানভেদে এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নতুন ৯ম জাতীয় বেতনস্কেল এখনও চূড়ান্ত গেজেট হয়নি, শুধু একটা ১০% বিশেষ সুবিধা যোগ হয়েছে, তাই আসছে বছরগুলোতে এই সংখ্যা বদলাতে পারে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বনাম জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান
উদ্ভিদবিজ্ঞানের সাথে সবচেয়ে কাছের সম্পর্ক মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির (GEB)। তিনটা সাবজেক্টই রসায়ন আর জীববিজ্ঞান নির্ভর, এবং ওপরে যেমন বলা হলো, উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও পরবর্তীতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা বায়োটেকনোলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়া যায়। GEB ঠিক কী নিয়ে কাজ করে, এবং মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানে কী পড়ানো হয়, বিস্তারিত জানতে আমাদের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ এবং মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান সাবজেক্ট রিভিউ পোস্ট দুটো পড়তে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
উদ্ভিদবিজ্ঞান কি শুধু গাছপালা নিয়ে পড়ার বিষয়?
না। গাছপালার পাশাপাশি মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি, ইকোলজি, বায়োইনফরম্যাটিক্সের মতো প্রায় ৩০টি শাখা এখানে পড়ানো হয়।
উদ্ভিদবিজ্ঞান পড়ে কী ধরনের চাকরি পাওয়া যায়?
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও পরিবেশ সংক্রান্ত সরকারি দপ্তর, ওষুধ কোম্পানির R&D বিভাগ, শিক্ষকতা এবং বিসিএসের সুযোগ থাকে।
কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিজ্ঞান পড়া যায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সহ প্রায় সব বিজ্ঞান-ভিত্তিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে পড়ার সুযোগ আছে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান আর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মধ্যে সম্পর্ক কী?
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েও পরবর্তীতে মাস্টার্স বা উচ্চতর পর্যায়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি বা মাইক্রোবায়োলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ থাকে।
আরও দেখুন: Faculty of Life & Earth Science এর অন্য সাবজেক্ট রিভিউ।

