হাতে-কলমে GPA বের করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় ৪র্থ বিষয়ের বোনাস নিয়মে, আর অনেকেই জানেন না GPA কখনো ৫.০০ পার হয় না। নিচের ক্যালকুলেটরে দুটোই নিজে থেকে হিসাব হয়ে যায়।

ফ্রি শিক্ষা টুল

জিপিএ ক্যালকুলেটর (SSC / HSC)

নিজের প্রতিটা বিষয়ের গ্রেড বা নম্বর বসান। বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের আসল নিয়ম মেনে GPA বের হয়ে যাবে, ৪র্থ বিষয়ের বোনাসও হিসাবে ধরা থাকবে।

নিচে শ্রেণি ও বিভাগ বেছে নিলে সেই বিভাগের চেনা বিষয়গুলো নিজে থেকেই বসে যাবে, নমুনা গ্রেডসহ। নিজের আসল বিষয় বা গ্রেড আলাদা হলে সরাসরি বদলে দিন, এগুলো শুধু শুরু করার সুবিধার জন্য।

সামগ্রিক GPA 5.00
আবশ্যিক বিষয় সংখ্যা
মূল বিষয়ের গ্রেড পয়েন্টের যোগফল
বিষয়গ্রেডপয়েন্ট

পুরো হিসাবটা আপনার ফোন বা কম্পিউটারেই হয়, আমাদের সার্ভারে কিছু যায় না।

সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন

নাম না দিলে সার্টিফিকেটে নাম দেখানো হবে না।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. শ্রেণি (SSC/HSC) আর বিভাগ (বিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা/মানবিক) বেছে নিন, চেনা বিষয়গুলো নিজে থেকেই বসে যাবে।
  2. গ্রেড, নম্বর, নাকি কাস্টম নম্বর, কোন পদ্ধতিতে হিসাব করবেন সেই ট্যাব বেছে নিন, তারপর প্রতিটা বিষয়ে নিজের গ্রেড বা নম্বর বসান।
  3. বিষয় কম-বেশি লাগলে + বা × চাপুন, ৪র্থ বিষয় থাকলে চেকবক্সে টিক দিন। GPA আর বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পয়েন্ট এমনিতেই নিচে বদলে যাবে।
  4. ফলাফল PDF সার্টিফিকেট হিসেবে ডাউনলোড করুন, বা WhatsApp/Facebook-এ শেয়ার করুন।

GPA পদ্ধতিটা আসলে কেমন

SSC আর HSC দুটোতেই একই ৫-পয়েন্ট স্কেল চলে। ৮০ বা তার বেশি পেলে A+, সর্বোচ্চ, গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০। এরপর ধাপে ধাপে নম্বর কমার সাথে গ্রেডও কমে, শেষে ৩৩-এর নিচে পড়লে F, মানে অকৃতকার্য।

আবশ্যিক কোনো বিষয়ে F এলে পুরো ফলাফলই অকৃতকার্য হয়ে যায়, বাকি বিষয়ে যতই ভালো করুন না কেন। ৪র্থ বিষয় আলাদা নিয়মে চলে, এর গ্রেড পয়েন্ট থেকে ২.০০ বাদ দিয়ে যা থাকে সেটুকুই বোনাস হিসেবে যোগ হয়, আর এতে F পেলেও মূল ফলাফলে কোনো ক্ষতি হয় না। GPA কখনো ৫.০০ পার হয় না, বোনাস যতই বড় হোক।

SSC-তে মূল বিষয় সাধারণত ৯টা হয় (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ধর্ম শিক্ষা, ICT, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, আর বিভাগভিত্তিক ৩টা), আর HSC-তে ৬টা (বাংলা, ইংরেজি, ICT, আর বিভাগভিত্তিক ৩টা)। উপরে শ্রেণি ও বিভাগ বেছে নিলে এই তালিকা নিজে থেকেই বসে যায়।

জিপিএ ক্যালকুলেটর নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা

এই ক্যালকুলেটর কীভাবে ব্যবহার করব?

শ্রেণি (SSC/HSC) আর বিভাগ (বিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা/মানবিক) বেছে নিন, সেই বিভাগের চেনা বিষয়গুলো নমুনা গ্রেডসহ বসে যাবে। এরপর গ্রেড, নম্বর, নাকি কাস্টম নম্বর, কোন পদ্ধতিতে হিসাব করবেন সেই ট্যাব বেছে নিয়ে প্রতিটা বিষয়ে নিজের তথ্য বসান। বিষয়সংখ্যা কম-বেশি হলে + বা × বাটনে চাপুন, ৪র্থ বিষয় থাকলে চেকবক্সে টিক দিন। GPA নিজে থেকেই বদলে যায়, আলাদা কোনো বাটনে চাপার দরকার নেই।

শ্রেণি ও বিভাগ বেছে নিলে বিষয়গুলো কি সবার জন্য একদম ঠিক থাকে?

এগুলো প্রতিটা বিভাগের সবচেয়ে চেনা ও সাধারণ বিষয় তালিকা, নির্ভুল সরকারি তালিকার প্রতিশ্রুতি না। বিশেষ করে ব্যবসায় শিক্ষা আর মানবিক বিভাগে প্রতিষ্ঠানভেদে ঐচ্ছিক বিষয় ভিন্ন হতে পারে। আপনার আসল বিষয় তালিকা থেকে আলাদা হলে বিষয়ের নাম সরাসরি বদলে দিন, GPA হিসাবে কোনো সমস্যা হবে না, কারণ নাম শুধু লেবেল, গ্রেড পয়েন্টের হিসাবে অংশ নেয় না।

সর্বোচ্চ নম্বর ১০০ না হলে কী করব?

"কাস্টম নম্বর দিয়ে" ট্যাবে প্রাপ্ত নম্বর আর সর্বোচ্চ নম্বর, দুটোই বসান, যেমন ৫০-এর মধ্যে ৩৮। ক্যালকুলেটর সেটাকে শতকরায় বদলে (৩৮ ÷ ৫০ × ১০০ = ৭৬%) একই গ্রেড সীমা দিয়ে গ্রেড বসাবে। এটা স্কুলের নিজস্ব বা ভিন্ন মানের পরীক্ষার জন্য, বোর্ড পরীক্ষার সরকারি ফলাফল সবসময় ১০০-এর মধ্যেই দেওয়া হয়, সেখানে "নম্বর দিয়ে" ট্যাব ব্যবহার করাই ঠিক।

বাংলাদেশে GPA কীভাবে হিসাব করা হয়?

প্রতিটা বিষয়ের নম্বরকে প্রথমে একটা গ্রেডে বদলানো হয়, A+ থেকে F পর্যন্ত। প্রতিটা গ্রেডের একটা নির্দিষ্ট গ্রেড পয়েন্ট আছে, সর্বোচ্চ ৫.০০। সব আবশ্যিক বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট যোগ করে বিষয়সংখ্যা দিয়ে ভাগ দিলেই GPA বের হয়। এই ক্যালকুলেটর ঠিক এই হিসাবটাই করে দেয়।

A+ পেতে কত নম্বর লাগে?

৮০ বা তার বেশি পেলেই A+, গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০, সর্বোচ্চ গ্রেড। এরপর ৭০-৭৯ এ A (৪.০০), ৬০-৬৯ এ A- (৩.৫০), ৫০-৫৯ এ B (৩.০০), ৪০-৪৯ এ C (২.০০), ৩৩-৩৯ এ D (১.০০), আর ৩৩-এর নিচে F (০.০০), মানে অকৃতকার্য। SSC আর HSC দুটোতেই এই একই সীমা চলে।

নম্বর দিয়ে আর গ্রেড দিয়ে হিসাবের মধ্যে পার্থক্য কী?

দুটোই একই ফলাফল দেয়, শুধু ইনপুট আলাদা। রেজাল্ট শিটে যদি শুধু গ্রেড লেখা থাকে, গ্রেড ট্যাব ব্যবহার করুন। হাতে আসল নম্বর থাকলে নম্বর ট্যাবে ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত সরাসরি বসিয়ে দিন, ক্যালকুলেটর নিজেই সেটাকে গ্রেডে বদলে নেবে।

৪র্থ বিষয়ের নম্বর GPA-তে কীভাবে যোগ হয়?

৪র্থ বিষয় আলাদাভাবে কাজ করে। এর গ্রেড পয়েন্ট থেকে ২.০০ বাদ দিয়ে যা থাকে, সেটুকুই বোনাস হিসেবে মূল বিষয়গুলোর যোগফলে যোগ হয়। যেমন ৪র্থ বিষয়ে A+ পেলে বোনাস ৩.০০, A পেলে বোনাস ২.০০। C বা তার কম পেলে বোনাস শূন্য, কারণ ২.০০-এর বেশি অংশটাই শুধু গোনা হয়। এই বোনাস ভাগ হয় না, শুধু যোগফলে যোগ হয়ে যায়, তারপর পুরোটা ভাগ হয় মূল বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে।

GPA কি কখনো ৫.০০-এর বেশি হতে পারে?

না। ৪র্থ বিষয়ের বোনাস মাঝে মাঝে হিসাবে ৫.০০-এর বেশি একটা সংখ্যা এনে দেয়, কিন্তু বোর্ডের নিয়মেই GPA কখনো ৫.০০ ছাড়ায় না। এই ক্যালকুলেটরও ৫.০০-তেই থামিয়ে দেয়, তবে বোনাসসহ আসল হিসাবটাও ফলাফলের নিচে আলাদা করে দেখায়, যাতে বোঝা যায় বোনাসটা আসলে কতটা কাজ করল।

কোনো বিষয়ে F পেলে পুরো ফলাফল কী দেখাবে?

আবশ্যিক কোনো বিষয়ে F থাকলে সামগ্রিক ফলাফল অকৃতকার্য দেখায়, GPA ০.০০। বাকি বিষয়ে যত ভালো গ্রেডই থাকুক, একটা F পুরো ফলাফল বদলে দেয়। এটা বোর্ডেরই নিয়ম, ক্যালকুলেটরের কোনো বাড়তি শর্ত না।

৪র্থ বিষয়ে F পেলেও কি একই জিনিস হবে?

না, এখানেই ৪র্থ বিষয়ের সুবিধা। এটা ঐচ্ছিক, তাই এতে F পেলে শুধু বোনাস পয়েন্টটা পাওয়া যায় না, বাকি ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়ে না। মূল বিষয়গুলো ঠিক থাকলে ৪র্থ বিষয়ে খারাপ করলেও পাশ করবেন।

SSC আর HSC-এর গ্রেডিং কি একই নিয়মে চলে?

হ্যাঁ, দুটোতেই একই ৫-পয়েন্ট স্কেল আর একই নম্বরের সীমা ব্যবহার হয়। পার্থক্য শুধু বিষয়সংখ্যা আর পাঠ্যক্রমে, GPA-এর হিসাবে না। তাই এই একই ক্যালকুলেটর দুই পরীক্ষার জন্যই কাজ করে।

SSC-তে ৯টা আর HSC-তে ৬টা মূল বিষয় কেন?

SSC-তে বাংলা ও ইংরেজি প্রতিটা একটা করে বিষয় (১ম ও ২য় পত্র মিলে একটাই গ্রেড), সাথে গণিত, ধর্ম শিক্ষা, ICT, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, আর বিভাগভিত্তিক ৩টা মিলিয়ে মোট ৯টা হয়। HSC-তে ধর্ম শিক্ষা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় আলাদা বিষয় হিসেবে গোনা হয় না, তাই বাংলা, ইংরেজি, ICT আর বিভাগভিত্তিক ৩টা মিলিয়ে মোট ৬টা হয়।

এই ক্যালকুলেটর কি বিনামূল্যে ও নিরাপদ?

হ্যাঁ। পুরো হিসাব আপনার ফোন বা কম্পিউটারেই হয়, আমাদের সার্ভারে কোনো নম্বর যায় না, সংরক্ষণও হয় না। সাইনআপেরও দরকার নেই।

UniQuery-এর ফ্রি জিপিএ ক্যালকুলেটর

GPA হিসাবটা এক নজরে

নিচের ছবিতে বাংলাদেশের পুরো GPA গ্রেডিং স্কেল আর হিসাবের প্রতিটা ধাপ এক জায়গায় দেখানো হলো, ৪র্থ বিষয়ের বোনাস নিয়মসহ।

বাংলাদেশের GPA গ্রেডিং স্কেল ও হিসাবের ধাপ গ্রেড নম্বরের সীমা গ্রেড পয়েন্ট মন্তব্য A+ ৮০ – ১০০ ৫.০০ অসাধারণ A ৭০ – ৭৯ ৪.০০ চমৎকার A- ৬০ – ৬৯ ৩.৫০ খুব ভালো B ৫০ – ৫৯ ৩.০০ ভালো C ৪০ – ৪৯ ২.০০ সন্তোষজনক D ৩৩ – ৩৯ ১.০০ স্বল্প (পাস) F ০ – ৩২ ০.০০ অকৃতকার্য GPA বের করার ধাপ প্রতিটা বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট সব গ্রেড পয়েন্ট যোগ করুন মূল বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ GPA সর্বোচ্চ ৫.০০ ৪র্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট − ২.০০ = বোনাস (যোগফলে যোগ হয়) আবশ্যিক কোনো বিষয়ে F এলে GPA সরাসরি ০.০০ হয়ে যায়, বাকি বিষয়ে যত ভালো গ্রেডই থাকুক। ৪র্থ বিষয়ে F পেলে শুধু বোনাসটাই পাওয়া যায় না, মূল ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়ে না। বোনাস যত বড়ই হোক, GPA কখনো ৫.০০-এর বেশি দেখানো হয় না।
বাংলাদেশের GPA গ্রেডিং স্কেল ও হিসাবের ধাপ, ৪র্থ বিষয়ের বোনাস নিয়মসহ

কেন এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করবেন

বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের GPA পদ্ধতি দেখতে সহজ মনে হলেও, ৪র্থ বিষয়ের বোনাস আর GPA-এর ৫.০০ সীমা, এই দুটো নিয়ম হাতে হিসাব করার সময় সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। এই ক্যালকুলেটর প্রতিটা নিয়ম ঠিকভাবে মেনে হিসাব করে, তাই ম্যানুয়াল গণনার ভুল থেকে বাঁচা যায়।

  • শ্রেণি (SSC/HSC) ও বিভাগ (বিজ্ঞান/ব্যবসায় শিক্ষা/মানবিক) বেছে নিলে সেই বিভাগের চেনা বিষয় নিজে থেকেই বসে যায়
  • গ্রেড, নম্বর, বা কাস্টম নম্বর (যেসব পরীক্ষার সর্বোচ্চ নম্বর ১০০ না), তিনভাবেই ইনপুট দেওয়া যায়
  • বিষয়ভিত্তিক গ্রেড পয়েন্ট একসাথে দেখা যায়, রঙ অনুযায়ী আলাদা করে চেনা যায়
  • ফলাফল সরাসরি একটা PDF সার্টিফিকেট হিসেবে ডাউনলোড করা যায়, নিজের নামসহ, অথবা WhatsApp/Facebook-এ শেয়ার করা যায়
  • পুরো হিসাব ফোন বা কম্পিউটারেই হয়, কোনো তথ্য কোথাও পাঠানো হয় না

PDF সার্টিফিকেট সম্পর্কে একটা কথা

ফলাফলের নিচে “সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন” বাটনে চাপলে নিজের নাম দিয়ে একটা A4-সাইজের PDF ফাইল তৈরি হয়, বিষয়ভিত্তিক গ্রেড আর GPA-সহ। এটা শুধু নিজের হিসাব রাখা বা শেয়ার করার জন্য, বোর্ডের official মার্কশিটের বিকল্প না, সেটা PDF-এর নিচেও স্পষ্ট করে লেখা থাকে।

SSC আর HSC-এর গ্রেডিং নিয়ম একদম একই, তবে মূল বিষয়সংখ্যা আলাদা (SSC-তে ৯টা, HSC-তে ৬টা), তাই শ্রেণি বেছে নিলে ক্যালকুলেটর সেই অনুযায়ী বিষয় সাজিয়ে দেয়। আরও গণিত ও রূপান্তরকারী টুল, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের CGPA ক্যালকুলেটরও শিগগিরই যুক্ত হবে।