সূচিপত্র
২০১৬ সালে যখন এই বিষয়ে প্রথম লেখা হয়েছিল, তখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সবে শুরু হয়েছে, আর নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল অনেকটাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনার বিষয়। এখন, ২০২৬ সালে এসে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষা এখন সপ্তাহ-মাসের হিসাবে। এই নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউতে কারিকুলাম, ভর্তি আর ক্যারিয়ারের হালনাগাদ চিত্র থাকছে।
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ: সংক্ষেপে যা জানা দরকার
- কী পড়ানো হয়: পারমাণবিক শক্তি, স্বাস্থ্য পদার্থবিজ্ঞান, তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক মেডিসিন
- ভর্তি: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞান ইউনিটের মাধ্যমে
- কোথায় পড়বেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, বছরে ২৫ আসন
- ক্যারিয়ার: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন (BAEC), নিয়ন্ত্রক সংস্থা BAERA, হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ
- বেতন: সরকারি পথে ৯ম গ্রেডে শুরুতে সর্বসাকুল্যে আনুমানিক ৳৩৫,০০০-৪৫,০০০, রূপপুরের মতো প্রকল্পে ভিন্ন হতে পারে
শুধু পাওয়ার প্ল্যান্ট নয়
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং শুনলেই বেশিরভাগ মানুষের মাথায় আসে শুধু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছবি। বাস্তবে পরমাণু শক্তি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি এই বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা হয় স্বাস্থ্য পদার্থবিজ্ঞান (Health Physics), তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ (Radiation Control), শক্তিবিষয়ক গবেষণা এবং পারমাণবিক মেডিসিনের মতো ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওথেরাপি যন্ত্র থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যন্ত, সবকিছুতেই এই বিষয়ের প্রয়োগ আছে।
বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এর সময়রেখা
কী কী পড়ানো হয়
- Nuclear Reactor Physics
- Radiation Detection and Measurement
- Health Physics and Radiation Protection
- Nuclear Power Plant Engineering
- Nuclear Materials
- Nuclear Medicine and Applications
- Reactor Safety and Nuclear Security
ভর্তি ও যোগ্যতা
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে শক্ত ভিত্তি জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে থাকা এই বিভাগে ভর্তি হতে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞান ইউনিটের মাধ্যমে, আসনসংখ্যা মাত্র ২৫ হওয়ায় প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট শর্ত বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে হালনাগাদ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে কোথায় পড়া যায়
| বিশ্ববিদ্যালয় | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | বাংলাদেশের একমাত্র নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বছরে ২৫ আসনের বিএসসি অনার্স, বর্তমানে ১৩১ জন বিএসসি, ১৪ জন এমএসসি এবং ২ জন পিএইচডি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত |
বিভাগটির ল্যাব-সুবিধা উন্নয়নে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন (BAEC), যে প্রতিষ্ঠান রূপপুর প্রকল্পেরও মূল দায়িত্বে আছে।
কর্মক্ষেত্র ও বেতন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে চালু হওয়ার সাথে সাথে দেশে প্রথমবারের মতো একটা বাস্তব, বড় পরিসরের কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের মধ্যে আছে রূপপুর প্ল্যান্টের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন (BAEC), নতুন গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA), হাসপাতালের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ, এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগও তুলনামূলক ভালো, যেহেতু বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির চাহিদা বাড়ছে।

যেহেতু এই ক্যারিয়ারের প্রধান পথ সরকারি প্রতিষ্ঠান বা BAEC-ধরনের সংস্থার মধ্য দিয়ে যায়, ৯ম গ্রেডে শুরুতে সর্বসাকুল্যে বেতন সাধারণত আনুমানিক ৳৩৫,০০০-৪৫,০০০ এর মধ্যে থাকে। রূপপুরের মতো বড় প্রকল্পে কারিগরি পদে বেতন কাঠামো ভিন্ন হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নতুন ৯ম জাতীয় বেতনস্কেল এখনও চূড়ান্ত গেজেট হয়নি, তাই আসছে বছরগুলোতে এই সংখ্যা বদলাতে পারে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোথায় পড়া যায়?
বাংলাদেশে একমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে, বছরে ২৫ আসনের একটা বিএসসি অনার্স প্রোগ্রাম।
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কি শুধু পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে?
না, স্বাস্থ্য পদার্থবিজ্ঞান, তেজস্ক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক মেডিসিনের মতো ক্ষেত্রেও এই বিষয়ের প্রয়োগ আছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা কী?
২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স পাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মক্ষেত্র কী কী?
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, BAEC, নিয়ন্ত্রক সংস্থা BAERA, হাসপাতালের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ আছে।
আরও দেখুন: পদার্থবিজ্ঞান সাবজেক্ট রিভিউ, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ এবং Faculty of Engineering এর অন্য সাবজেক্ট রিভিউ।

