সূচিপত্র
১৯০৩ সালে রাইট ভাইদের হাত ধরে মানুষের আকাশে ওড়ার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পর থেকেই অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর যাত্রা শুরু। বিমানের গঠন, উৎপাদন আর পরিচালনা, যাত্রীবাহী বিমান থেকে মহাকাশের নভোযান পর্যন্ত সবকিছুই এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টা এখনও তুলনামূলক নতুন হলেও, গত দেড় দশকে একটা নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা তৈরি হয়েছে। এই অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউতে কারিকুলাম, ভর্তি আর ক্যারিয়ারের হালনাগাদ চিত্র থাকছে।
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ: সংক্ষেপে যা জানা দরকার
- কী পড়ানো হয়: দুই শাখা, Aerospace (মেকানিক্যাল অংশ) এবং Avionics (ইলেকট্রিক্যাল অংশ)
- ভর্তি: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC, পদার্থবিজ্ঞান-রসায়ন-গণিতে শক্ত ভিত্তি জরুরি
- কোথায় পড়বেন: মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (MIST), বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান
- ক্যারিয়ার: দেশি-বিদেশি এভিয়েশন কোম্পানি, উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা খাত
- বেতন: দেশের এভিয়েশন খাতে অন্যান্য প্রকৌশল শাখার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যতম উচ্চ-বেতনের প্রকৌশল ক্ষেত্র
অ্যারোস্পেস ও এভিওনিক্স, দুই শাখা
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত দুইটা ভাগে বিভক্ত, Aerospace এবং Avionics। Aerospace শাখায় বিমানের মেকানিক্যাল অংশ নিয়ে পড়ানো হয়, যেমন ইঞ্জিন, কাঠামো, আর উড্ডয়নের পদার্থবিজ্ঞান। Avionics শাখায় পড়ানো হয় বিমানের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক অংশ, যেমন রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে একজন শিক্ষার্থী মেকানিক্যাল আর ইলেকট্রিক্যাল, দুই ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং এরই স্বাদ পান, কারণ এই বিষয় বিমান সংক্রান্ত প্রায় সবকিছু নিয়েই কাজ করে।
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর দুইটি প্রধান শাখা
কী কী পড়ানো হয়
Aerospace শাখায়:
- Aerospace Propulsion
- Applied and High-Speed Aerodynamics
- Aerospace Vehicle Design
- Rotorcraft Performance
- Aircraft Structural Design
- Aircraft Loading and Structural Analysis
- Space Engineering
Avionics শাখায়:
- Avionics Engineering
- Radar Engineering
- Satellite Communication
- Optoelectronics
- Microwave Engineering
- Aero-measurement and Instrumentation
- Guidance, Navigation and Control
ভর্তি ও যোগ্যতা
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে শক্ত ভিত্তি জরুরি। যেহেতু দেশে একমাত্র MIST-এই এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে, ভর্তি হতে হয় MIST-এর নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রতিযোগিতা যথেষ্ট কঠিন। প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট আসনসংখ্যা ও শর্ত বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে হালনাগাদ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে কোথায় পড়া যায়
| প্রতিষ্ঠান | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|
| মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (MIST) | বাংলাদেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার একমাত্র জায়গা, প্রোগ্রাম চালু হয় ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান |
প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে এখন এই বিভাগে সত্যিকারের গবেষণা প্রকল্পও চলছে, যেমন এয়ারক্র্যাফট ফুয়েল ফিডিং সিস্টেম আর আর্মামেন্ট রিলিজ সিস্টেম নিয়ে কাজ। বিভাগের শিক্ষক প্যানেল গঠিত হয়েছে মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রকৌশলী সদস্যদের নিয়ে।
কর্মক্ষেত্র ও বেতন
বিশ্বের অনেক দেশেই অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি, কানাডা ও ইতালির মতো দেশে এই খাত অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশে দেশীয় অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের সংখ্যা এখনও তুলনামূলক কম, তবে MIST দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করায় এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। কর্মক্ষেত্র হিসেবে আছে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা খাত এবং দেশের বাইরে বড় বড় এভিয়েশন ও মহাকাশ প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিকভাবে অ্যারোনটিক্যাল বা অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বরাবরই তুলনামূলক বেশি বেতনের একটা ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে বেতন-অনুসন্ধানী উৎসের হিসাবে NASA-তে একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ১,৬৬,৬২০ ডলার, নির্দিষ্টভাবে “অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার” পদে প্রায় ১,১৪,৫০৫ ডলার, বোয়িং-এ গড়ে প্রায় ১,০৭,১৪৭ ডলার, এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে সামগ্রিকভাবে একজন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যক বার্ষিক বেতন প্রায় ১,৩৪,৮৩০ ডলার। এগুলো সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের সংখ্যা, সরাসরি বাংলাদেশের সাথে তুলনীয় না, তবে বিশ্বব্যাপী এই ক্ষেত্রটা কতটা প্রতিযোগিতামূলক বেতন দেয় তার একটা ধারণা দেয়। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোতে বেতন অন্যান্য প্রকৌশল শাখার তুলনায় সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক বলে জানা যায়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বাংলাদেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোথায় পড়া যায়?
বাংলাদেশে একমাত্র মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (MIST) এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে, ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু।
Aerospace আর Avionics এর মধ্যে পার্থক্য কী?
Aerospace বিমানের মেকানিক্যাল অংশ (ইঞ্জিন, কাঠামো) নিয়ে কাজ করে, Avionics বিমানের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক অংশ (রাডার, যোগাযোগ, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) নিয়ে কাজ করে।
অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন কেমন?
আন্তর্জাতিকভাবে এটা তুলনামূলক বেশি বেতনের একটা প্রকৌশল ক্ষেত্র। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোতেও বেতন অন্যান্য প্রকৌশল শাখার তুলনায় সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক।
MIST-এর অ্যারোনটিক্যাল বিভাগে কী ধরনের গবেষণা হয়?
বর্তমানে এয়ারক্র্যাফট ফুয়েল ফিডিং সিস্টেম এবং আর্মামেন্ট রিলিজ সিস্টেমের মতো প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে।
আরও দেখুন: এমএমই সাবজেক্ট রিভিউ এবং Faculty of Engineering এর অন্য সাবজেক্ট রিভিউ।

