মূল কনটেন্টে যান

কৃষি (Agriculture) সাবজেক্ট রিভিউ: গুচ্ছ ভর্তি থেকে বিসিএস ক্যাডার পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড

১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ৮ মিনিট পড়া আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬
কৃষি (Agriculture) সাবজেক্ট রিভিউ: কৃষি গুচ্ছ ভর্তি ও ক্যারিয়ার গাইড

“কৃষি পড়ে কী হবে, চাষ করবে?” ভর্তি মৌসুমে এই টিপ্পনী শোনেননি এমন কৃষি শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া কঠিন। মজার ব্যাপার, টিপ্পনী কাটা মানুষগুলোই হয়তো জানেন না যে বিসিএসে কৃষির জন্য আলাদা একটা ক্যাডারই আছে, দেশের ধান-সবজির নতুন জাতগুলো বানান এই গ্র্যাজুয়েটরাই, আর কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনের জন্য লড়েন একাধিক পরীক্ষার্থী। এই লেখাটা সেই ভুল ধারণাগুলো সরিয়ে আসল ছবিটা দেখানোর চেষ্টা, আমাদের Subject Review সিরিজের নতুন কিস্তি, a complete agriculture subject review in Bangla।

কৃষিতে কী পড়ানো হয়, কৃষি গুচ্ছের ৯টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্ত আর মানবণ্টন কেমন, পাস করে চাকরির বাজারটা আসলে কোথায়, সব প্রশ্নের উত্তর নিচে ধাপে ধাপে।

কৃষি সাবজেক্ট রিভিউ (Agriculture Subject Review): সংক্ষেপে যা জানা দরকার

  • পড়ার বিষয়: ফসলের বিজ্ঞান, মাটি, উদ্ভিদ প্রজনন, পোকামাকড় ও রোগবালাই, কৃষি অর্থনীতি, খামার ব্যবস্থাপনা, সাথে মাঠে হাতে-কলমে কাজ
  • ডিগ্রি: বিএসসি এজি (অনার্স), সাধারণত ৪ বছর, সাথে ইন্টার্নশিপ/অ্যাটাচমেন্ট সেমিস্টার
  • ভর্তি: কৃষি গুচ্ছের এক পরীক্ষায় ৯টা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাম্প্রতিক সাইকেলে মোট আসন ৩,৭০১টা
  • যোগ্যতা: বিজ্ঞান বিভাগ, SSC ও HSC দুটোতেই ন্যূনতম GPA 4.00 আর দুটো মিলিয়ে কমপক্ষে 8.50
  • ক্যারিয়ার: বিসিএস (কৃষি ক্যাডার), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI, BRRI), ব্যাংক, এগ্রো কোম্পানি, এনজিও
  • বাস্তবতা: সরকারি চাকরির পাল্লা ভারী এমন অল্প কিছু সাবজেক্টের একটা, তবে ক্যাম্পাসগুলোর বেশিরভাগ ঢাকার বাইরে

যে দেশ খায় ভাত, সে দেশ কেন কৃষিবিদ চায়

বাংলাদেশের অর্থনীতির গল্পে পোশাক খাত যদি নায়ক হয়, কৃষি তাহলে পুরো মঞ্চটাই। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাবার আসে নিজের জমি থেকে, কোটি মানুষের জীবিকা সরাসরি কৃষিনির্ভর, আর ধান, সবজি, মাছ, পোলট্রিতে দেশ আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তার পেছনে ষাট বছরের কৃষি গবেষণার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, লবণাক্ততা, কমতে থাকা আবাদি জমি, এই চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতিটাই আসলে কৃষিবিদদের জন্য কাজের ক্ষেত্র।

এজন্যই রাষ্ট্র কৃষি শিক্ষায় এত বিনিয়োগ করে: দেশের সবচেয়ে পুরোনো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) প্রতিষ্ঠিত সেই ১৯৬১ সালে, আর আজ শুধু কৃষি গুচ্ছেই আছে ৯টা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, গুচ্ছের বাইরেও কয়েকটিতে (যেমন দিনাজপুরের হাবিপ্রবি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি) কৃষি-সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম চালু। সরকারি চাকরিতে কৃষিবিদদের জন্য নির্ধারিত পদের সংখ্যাও অন্য অনেক বিষয়ের চেয়ে বেশি, বিসিএসের আলাদা কৃষি ক্যাডার তো আছেই।

কৃষিতে আসলে কী পড়ানো হয়?

অনেকের ধারণা কৃষি মানে চাষবাসের কায়দাকানুন মুখস্থ করা। বাস্তবে বিএসসি এজি একটা পুরোদস্তুর ফলিত বিজ্ঞান ডিগ্রি, যার ভেতরে ঢুকে আছে উদ্ভিদবিজ্ঞান, রসায়ন, জেনেটিক্স আর অর্থনীতির বড়সড় অংশ। মূল কোর্সগুলোকে সাজালে ছবিটা এরকম:

  • এগ্রোনমি: ফসল উৎপাদনের মূল বিজ্ঞান, কোন ফসল কখন কীভাবে ফলাতে হয়
  • মৃত্তিকা বিজ্ঞান: মাটির রসায়ন, উর্বরতা, সার ব্যবস্থাপনা
  • উদ্ভিদ প্রজনন ও জেনেটিক্স: নতুন জাত উদ্ভাবনের বিজ্ঞান, দেশের ধানের উন্নত জাতগুলো এই জ্ঞানেরই ফসল
  • কীটতত্ত্ব ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব: পোকামাকড় আর রোগবালাই থেকে ফসল বাঁচানোর কৌশল
  • হর্টিকালচার: ফল, সবজি, ফুলের চাষ ও সংরক্ষণ
  • কৃষি অর্থনীতি ও সম্প্রসারণ: খামারের হিসাব-নিকাশ, কৃষকের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছানোর কৌশল

সাথে আছে ল্যাব আর মাঠের কাজ: নিজের হাতে প্লট বানানো, ফসল ফলানো, রোগ শনাক্ত করা। শেষ দিকে থাকে ইন্টার্নশিপ বা ফার্ম অ্যাটাচমেন্ট, যেখানে গ্রামে থেকে সরাসরি কৃষক পর্যায়ের কাজ দেখতে হয়। এই হাতে-কলমে অংশটাই কৃষি পড়ার আসল মজা, ক্লাসরুমের বাইরে কাটে পড়াশোনার একটা বড় সময়।

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি: ৯ বিশ্ববিদ্যালয়, এক পরীক্ষা

আগে প্রতিটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো, এখন ৯টা বিশ্ববিদ্যালয় মিলে হয় একটাই পরীক্ষা, যার পোশাকি নাম কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। এক আবেদনে, এক পরীক্ষায় ৯টা প্রতিষ্ঠানের যেকোনোটায় ভর্তির সুযোগ, মেধাক্রম আর পছন্দের ভিত্তিতে আসন বণ্টন। আবেদন আর যাবতীয় তথ্যের অফিসিয়াল ঠিকানা acas.edu.bd

সর্বশেষ (২০২৫-২৬) সাইকেলের হিসাবে গুচ্ছের সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় আর আসন:

বিশ্ববিদ্যালয়অবস্থানআসন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU)ময়মনসিংহ১,০০৬
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SAU)ঢাকা৭০৫
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (GAU)গাজীপুর৫১০
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PSTU)পটুয়াখালী৪৫২
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SAU)সিলেট৪৩১
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (CVASU)চট্টগ্রাম২৭৫
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (KAU)খুলনা১৫০
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (HAU)হবিগঞ্জ৯০
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (KuriAU)কুড়িগ্রাম৮২
মোট৩,৭০১
Agriculture subject review: কৃষি গুচ্ছের ৯টা বিশ্ববিদ্যালয় ও আসন সংখ্যা এক নজরে, মোট ৩৭০১ আসন
কৃষি গুচ্ছের ৯ সদস্য: ঐতিহ্যের BAU থেকে নবীন কুড়িগ্রাম পর্যন্ত

দুটো জিনিস খেয়াল রাখবেন। এক, বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে প্রোগ্রামের তালিকা আলাদা: কোথাও শুধু কৃষি, কোথাও ভেটেরিনারি, ফিশারিজ, এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি, কৃষি অর্থনীতি বা এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংও আছে। দুই, আসন সংখ্যা আর সদস্য তালিকা বছরভেদে একটু-আধটু বদলায়, তাই আবেদনের আগে ওই বছরের সার্কুলারটাই শেষ কথা।

ভর্তির যোগ্যতা ও পরীক্ষার মানবণ্টন

কৃষি গুচ্ছে আবেদনের দরজা খোলা শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত আর জীববিজ্ঞান পড়া আছে। সাম্প্রতিক সার্কুলারের মূল শর্ত:

  • SSC ও HSC দুই পরীক্ষাতেই (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম GPA 4.00
  • দুই পরীক্ষার GPA মিলিয়ে কমপক্ষে 8.50
  • আবেদন সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চে, পরীক্ষা এপ্রিলে, আবেদন ফি সাম্প্রতিক সাইকেলে ১,২০০ টাকা

নিজের GPA শর্ত পূরণ করছে কি না দ্রুত দেখে নিতে জিপিএ ক্যালকুলেটরে রেজাল্ট বসিয়ে ফেলুন, আর জিপিএ-র হিসাবটা কীভাবে কাজ করে জানতে আছে আমাদের জিপিএ বের করার নিয়ম গাইড।

ভর্তি পরীক্ষা হয় ১০০ নম্বরের MCQ, সময় ১ ঘণ্টা। মানবণ্টনে জীববিজ্ঞানের পাল্লা সবচেয়ে ভারী, ভাগ করা আছে প্রাণিবিজ্ঞান আর উদ্ভিদবিজ্ঞানে:

বিষয়নম্বর
পদার্থবিজ্ঞান২০
রসায়ন২০
গণিত২০
উদ্ভিদবিজ্ঞান১৫
প্রাণিবিজ্ঞান১৫
ইংরেজি১০
মোট (MCQ)১০০

মেধাতালিকা অবশ্য শুধু এই ১০০ নম্বরে হয় না। এর সাথে SSC-র GPA থেকে ২৫ আর HSC-র GPA থেকে ২৫, মোট ১৫০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাক্রম তৈরি হয়। মানে বোর্ড পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট এখানে সরাসরি নম্বর হয়ে কাজে লাগে, শুধু আবেদনের ছাড়পত্র না।

Agriculture subject review: কৃষি গুচ্ছ ভর্তির যোগ্যতা, ১০০ নম্বরের MCQ মানবণ্টন ও ১৫০ নম্বরের মেধাতালিকার হিসাব
যোগ্যতা, মানবণ্টন আর মেধাতালিকা, এক ছবিতে

ক্যারিয়ার: বিসিএস কৃষি ক্যাডার থেকে এগ্রো কোম্পানি

কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য: সরকারি খাতের দরজাগুলো এখানে অস্বাভাবিক রকমের চওড়া। প্রধান পথগুলো:

  • বিসিএস কৃষি ক্যাডার: কৃষিবিদদের নিজস্ব ক্যাডার। সাধারণ ক্যাডারের মতো লাখো প্রতিযোগীর ভিড় এখানে নেই, লড়াইটা মূলত কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যেই। নিয়োগ হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড পদে।
  • কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE): বিসিএসের বাইরেও কৃষি কর্মকর্তা পর্যায়ের নিয়োগ হয়, মাঠপর্যায়ে কৃষকের সাথে সরাসরি কাজ।
  • গবেষণা ইনস্টিটিউট: BARI (কৃষি গবেষণা), BRRI (ধান), BINA (পরমাণু কৃষি), BJRI (পাট) সহ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদ, নতুন জাত আর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ।
  • ব্যাংক: কৃষি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কৃষিঋণ ও এগ্রি-ফাইন্যান্স বিভাগে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের আলাদা কদর।
  • এগ্রো কোম্পানি: ACI, লাল তীর, সুপ্রিম সিডের মতো দেশি কোম্পানি থেকে সিনজেনটা, বায়ারের মতো মাল্টিন্যাশনাল, বীজ-সার-কীটনাশকের বিশাল বাজারে টেকনিক্যাল ও মার্কেটিং দুই ধরনের পদই আছে।
  • এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থা: ব্র্যাকের মতো বড় এনজিওর কৃষি কর্মসূচি থেকে জাতিসংঘের খাদ্য-কৃষিবিষয়ক প্রকল্প, উন্নয়ন খাতেও চাহিদা নিয়মিত।
Agriculture subject review: কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ছয়টা ক্যারিয়ার ট্র্যাক, বিসিএস কৃষি ক্যাডার থেকে এগ্রো কোম্পানি পর্যন্ত
এক ডিগ্রি থেকে ছয় রকমের ক্যারিয়ার

বেতনের ছবিটা খাতভেদে আলাদা। সরকারি পদগুলোতে (ক্যাডার, গবেষণা, DAE) বেতন জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী, শুরুতে অঙ্কটা মাঝারি হলেও চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন আর সামাজিক মর্যাদার হিসাবে এগুলোই এই লাইনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য। বেসরকারি এগ্রো কোম্পানিতে শুরুর বেতন প্রতিষ্ঠানভেদে ওঠানামা করে, তবে সেলস-মার্কেটিং ট্র্যাকে পারফরম্যান্স ভালো হলে বৃদ্ধিটা দ্রুত। সব মিলিয়ে “পাস করে বসে থাকা” এই সাবজেক্টে তুলনামূলক কম, তবে প্রথম চাকরির জন্য বিসিএস বা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এক-দুই বছর লেগে যাওয়াটাও এখানে স্বাভাবিক চিত্র।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ

গবেষণার দিকে ঝোঁক থাকলে কৃষি অসম্ভব উর্বর ক্ষেত্র। দেশে মাস্টার্স-পিএইচডির সুযোগ তো আছেই, বিদেশেও কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের স্কলারশিপের রেকর্ড ঈর্ষণীয়: জাপানের MEXT, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙেনের মতো বিশ্বসেরা কৃষি স্কুল, যুক্তরাষ্ট্রের ল্যান্ড-গ্র্যান্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, সবখানেই বাংলাদেশি কৃষিবিদরা নিয়মিত যাচ্ছেন। গবেষণার আলোচিত ক্ষেত্রগুলোও এখন দারুণ: ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার, লবণসহিষ্ণু জাত, প্রিসিশন ফার্মিং (ড্রোন-সেন্সরের কৃষি), ফুড সেফটি।

স্কলারশিপের প্রথম বাছাই কিন্তু হয় রেজাল্ট দিয়েই, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে সিজিপিএ ধরে রাখা জরুরি। সেমিস্টারের হিসাব রাখতে সিজিপিএ ক্যালকুলেটর হাতের কাছে রাখুন।

কাদের জন্য কৃষি, কাদের জন্য না

জীববিজ্ঞান যাঁদের প্রিয়, ল্যাবের পাশাপাশি মাঠের কাজেও যাঁদের আপত্তি নেই, আর সরকারি চাকরি বা গবেষণা যাঁদের লক্ষ্য, কৃষি তাঁদের জন্য দারুণ মানানসই। ক্যাম্পাস-জীবনটাও আলাদা রকমের সুন্দর: বিশাল সবুজ ক্যাম্পাস, নিজেদের ফলানো ফসল, ব্যাচভিত্তিক ঘনিষ্ঠ কমিউনিটি।

আবার সত্যিটাও বলা দরকার। ক্যাম্পাসগুলোর বেশিরভাগ ঢাকার বাইরে, চাকরিজীবনের বড় অংশও কাটতে পারে উপজেলা পর্যায়ে। মাঠের কাজ মানে রোদ-বৃষ্টি-কাদা, এসি রুমের চাকরির ছবি মাথায় থাকলে হতাশ হবেন। আর যাঁরা দ্রুত মোটা বেতনের কর্পোরেট ক্যারিয়ার চান, তাঁদের জন্য সম্ভবত এটা প্রথম পছন্দ না। এখনো বিভাগ বাছাইয়ের ধাপে থাকলে সায়েন্স, কমার্স নাকি মানবিক লেখাটাও পড়ে নিতে পারেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কৃষি গুচ্ছে সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দেওয়া যায়?

সাম্প্রতিক সার্কুলারগুলোতে আগের বছরের HSC পাসকৃতদেরও আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত বছরভেদে বদলায়, তাই নিজের বছরের অফিসিয়াল সার্কুলার দেখে নিশ্চিত হোন।

GPA 8.50-এর কম হলে কি কোনোভাবেই কৃষি পড়া যাবে না?

গুচ্ছের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে না, শর্তটা সেখানে বাধ্যতামূলক। তবে গুচ্ছের বাইরের কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে (নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়ায়) কৃষি-সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম আছে, শর্ত সেখানে আলাদা, আর কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বা এগ্রিবিজনেস প্রোগ্রামে শর্ত তুলনামূলক শিথিল। বেসরকারিতে ভর্তির আগে প্রোগ্রামটার অনুমোদন আর ল্যাব-ফার্ম সুবিধা যাচাই করে নেবেন।

কৃষি পড়লেই কি বিসিএস কৃষি ক্যাডার পাওয়া যায়?

না, বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই যেতে হয়: প্রিলি, রিটেন, ভাইভা সবই আছে। সুবিধাটা হলো কৃষি ক্যাডারের পদগুলোতে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকে কৃষি-সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে, সাধারণ ক্যাডারের মতো সবার সাথে লড়তে হয় না।

ভেটেরিনারি বা ফিশারিজ কি কৃষির মধ্যেই পড়ে?

একই গুচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি, কিন্তু ডিগ্রিগুলো আলাদা: ডিভিএম (ভেটেরিনারি), বিএসসি ইন ফিশারিজ, এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি, কৃষি অর্থনীতি, প্রতিটার নিজস্ব পাঠ্যক্রম আর ক্যারিয়ার ট্র্যাক। পরীক্ষার মেধাক্রম আর পছন্দ অনুযায়ী প্রোগ্রাম বণ্টন হয়।

কৃষি গুচ্ছের প্রস্তুতি কীভাবে নেব?

HSC-র জীববিজ্ঞান (উদ্ভিদ ও প্রাণী দুটোই), রসায়ন, পদার্থ আর গণিতে মূল বইয়ের দখলই আসল। মানবণ্টনে জীববিজ্ঞান মিলিয়ে ৩০ নম্বর, তাই মূল বইয়ের খুঁটিনাটিসহ জীববিজ্ঞানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। নেগেটিভ মার্কিং থাকে কি না সেটা ওই বছরের সার্কুলারে দেখে নেবেন।

HSC রেজাল্টের কত দিন পর কৃষি গুচ্ছের সার্কুলার আসে?

সাধারণত রেজাল্টের কয়েক মাস পর, ফেব্রুয়ারি নাগাদ আবেদন শুরু হয়ে এপ্রিলে পরীক্ষা। রেজাল্ট দেখার সব পদ্ধতি আর রেজাল্ট-পরবর্তী পুরো টাইমলাইন পাবেন আমাদের HSC Result দেখার নিয়ম গাইডে।

শেয়ার করুন: ফেসবুক টেলিগ্রাম

এই বিভাগের আরও লেখা

সব দেখুন
Fisheries সাবজেক্ট রিভিউ
কৃষি অনুষদ

ফিশারিজ (Fisheries) সাবজেক্ট রিভিউ: মৎস্যবিজ্ঞানে কী পড়ানো হয়, কোথায় পড়বেন আর ক্যারিয়ার কেমন

Fisheries সাবজেক্ট রিভিউ বাংলায়: মৎস্যবিজ্ঞানে কী পড়ানো হয়, কৃষি গুচ্ছে কোথায় পড়া যায়, বিসিএস মৎস্য ক্যাডার আর রপ্তানিমুখী…

২০ আগস্ট ২০২৬ ৬ মিনিট পড়া
Veterinary সাবজেক্ট রিভিউ
কৃষি অনুষদ

ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স (Veterinary) সাবজেক্ট রিভিউ: DVM ডিগ্রি, ভর্তি আর ক্যারিয়ারের পূর্ণ ছবি

Veterinary সাবজেক্ট রিভিউ বাংলায়: DVM কত বছরের, কৃষি গুচ্ছে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া যায়, ভেটেরিনারি কাউন্সিল নিবন্ধন আর প্রাণিসম্পদ…

২০ আগস্ট ২০২৬ ৭ মিনিট পড়া

মতামত জানান

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।