সূচিপত্র
একটা মোবাইল ফোনের ভেতরে ধাতু, সেমিকন্ডাক্টর, পলিমার আর সিরামিক, চারটা ভিন্ন ধরনের উপাদানই একসাথে কাজ করে। এই সব উপাদান কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে এদের বৈশিষ্ট্য বদলানো যায়, আর কোন কাজে কোন উপাদান সবচেয়ে উপযোগী, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজে মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএমই)। বাংলাদেশে এই বিষয়টা অল্প কিছু শিক্ষার্থীর গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বৈশ্বিকভাবে এটা আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম ভিত্তি। এই এমএমই সাবজেক্ট রিভিউতে কারিকুলাম, ভর্তি আর ক্যারিয়ারের হালনাগাদ চিত্র থাকছে।
এমএমই সাবজেক্ট রিভিউ: সংক্ষেপে যা জানা দরকার
- কী পড়ানো হয়: ধাতু, সিরামিক, সেমিকন্ডাক্টর, পলিমার ও কম্পোজিট, এই পাঁচ ধরনের উপাদানের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল
- ভর্তি: বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC, পদার্থবিজ্ঞান-রসায়ন-গণিতে শক্ত ভিত্তি জরুরি
- কোথায় পড়বেন: বাংলাদেশে একমাত্র BUET-এ, বছরে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়
- ক্যারিয়ার: স্টিল ও সিরামিক শিল্প, গবেষণা, গ্যাস-জ্বালানি খাত, বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং
- বেতন: ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের সাধারণ শুরু মাসে আনুমানিক ৳২৫,০০০-৪৫,০০০, অভিজ্ঞতার সাথে বাড়ে
পাঁচটি প্রধান উপাদান শাখা
এমএমই’র পুরো পাঠ্যক্রম মূলত পাঁচটা বড় উপাদান-শ্রেণিকে ঘিরে গড়ে ওঠে:
এমএমই’র পাঁচটি প্রধান উপাদান শাখা
ধাতু (Metal): লোহা, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়ামের মতো ধাতুর নিষ্কাশন, প্রক্রিয়াকরণ, খাদ (alloy) তৈরি এবং ক্ষয়রোধ (corrosion) নিয়ন্ত্রণ। দেশের স্টিল রি-রোলিং শিল্পের ভিত্তি এই শাখাতেই।
সিরামিক (Ceramic): কাচ, সিমেন্ট, রিফ্র্যাক্টরি ইট থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক সিরামিক পর্যন্ত, উচ্চ তাপ ও রাসায়নিক প্রতিরোধী উপাদান নিয়ে কাজ।
সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor): সিলিকনভিত্তিক উপাদান, যা কম্পিউটার চিপ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মূল ভিত্তি। এই শাখা মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিংকে সরাসরি প্রযুক্তি শিল্পের সাথে যুক্ত করে।
পলিমার (Polymer): প্লাস্টিক, রাবার ও কৃত্রিম ফাইবার, যা প্যাকেজিং থেকে টেক্সটাইল পর্যন্ত অসংখ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
কম্পোজিট (Composite): দুই বা ততোধিক উপাদান একসাথে মিশিয়ে হালকা অথচ মজবুত নতুন উপাদান তৈরি, যেমন কার্বন ফাইবার, যা এভিয়েশন ও অটোমোবাইল শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ড্যান শেখটম্যান (Dan Shechtman), কোয়াসিক্রিস্টাল (quasicrystal) আবিষ্কারের জন্য, এমন এক ধরনের স্ফটিক গঠন যা প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিল। এই ঘটনা মেটেরিয়ালস সায়েন্সের গুরুত্ব এবং এখনও নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগ কতটা বিশাল তার একটা ভালো উদাহরণ।
কী কী পড়ানো হয়
- Physical Metallurgy
- Extractive Metallurgy
- Materials Science
- Ceramics Engineering
- Polymer Science
- Corrosion Engineering
- Phase Transformation
- Mechanical Behavior of Materials
ভর্তি ও যোগ্যতা
এমএমই পড়তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে HSC পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতে শক্ত ভিত্তি জরুরি। যেহেতু দেশে একমাত্র BUET-এই এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে, ভর্তি হতে হয় BUET-এর নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে, যেখানে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। প্রতি বছর সুনির্দিষ্ট আসনসংখ্যা ও শর্ত বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে হালনাগাদ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে কোথায় পড়া যায়
| বিশ্ববিদ্যালয় | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|
| BUET | বাংলাদেশে এমএমই পড়ার একমাত্র জায়গা, বছরে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয় ৪ বছর মেয়াদি প্রোগ্রামে, মাস্টার্স ও পিএইচডি সুযোগও আছে |
যেহেতু সারা দেশে একটামাত্র বিভাগ থেকেই প্রতি বছর সীমিতসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বের হন, এমএমই বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট প্রকৌশল শাখাগুলোর একটা, যা চাকরির বাজারে সরবরাহ কম থাকার একটা বাড়তি সুবিধাও তৈরি করে।
কর্মক্ষেত্র ও বেতন
এমএমই গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কাজের ক্ষেত্র বেশ বৈচিত্র্যময়। দেশের ভেতরে স্টিল রি-রোলিং মিল, সিরামিক ও গ্লাস কারখানা, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে (পাইপলাইন মেটেরিয়াল, ক্ষয়রোধ প্রকৌশল), BCSIR-এর মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এবং BUET-এ শিক্ষকতা-গবেষণার সুযোগ আছে। দেশের বাইরে সেমিকন্ডাক্টর, এভিয়েশন ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (কৃত্রিম হাড়-জোড়ের মতো প্রস্থেটিক্স) এর মতো ক্ষেত্রেও এমএমই ব্যাকগ্রাউন্ডের চাহিদা আছে।

ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের সাধারণ শুরু মাসে আনুমানিক ৳২৫,০০০-৪৫,০০০, প্রতিষ্ঠান ও খাতভেদে কম-বেশি হতে পারে। এই বিষয়ের জন্য আলাদা কোনো নির্ভরযোগ্য বেতন জরিপ বাংলাদেশে পাওয়া যায়নি, যেহেতু এটা অত্যন্ত ছোট একটা ক্ষেত্র, তাই এখানে অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক প্রকৌশল বিষয়ের মতো একই রক্ষণশীল পরিসর ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
বাংলাদেশে এমএমই কোথায় পড়া যায়?
বাংলাদেশে একমাত্র BUET-এই এমএমই পড়ার সুযোগ আছে, বছরে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।
এমএমই’র পাঁচটি প্রধান উপাদান শাখা কী কী?
ধাতু, সিরামিক, সেমিকন্ডাক্টর, পলিমার এবং কম্পোজিট, এই পাঁচটি প্রধান শাখা নিয়ে এমএমই’র পাঠ্যক্রম গঠিত।
এমএমই পড়ে কী ধরনের চাকরি পাওয়া যায়?
স্টিল ও সিরামিক শিল্প, গ্যাস-জ্বালানি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বাইরে সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মতো ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ আছে।
এমএমই’র সাথে ২০১১ সালের নোবেল পুরস্কারের সম্পর্ক কী?
২০১১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান ড্যান শেখটম্যান, কোয়াসিক্রিস্টাল আবিষ্কারের জন্য, যা মেটেরিয়ালস সায়েন্সেরই একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার।
আরও দেখুন: আইপিই সাবজেক্ট রিভিউ, পিএমই সাবজেক্ট রিভিউ, অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট রিভিউ এবং Faculty of Engineering এর অন্য সাবজেক্ট রিভিউ।

