UniQuery–র CSEরিলেটেড পোস্টে আপনাদের স্বাগতম। এই পর্বে আমরা CSE নিয়ে কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। তো চলুন আজকের বিস্তৃত পর্ব-টি শুরু করা যাক।
Computer Science and Engineering হচ্ছে স্নাতক পর্যায়ের এমন একটি প্রোগ্রাম যেটা কম্পিউটার প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের সমন্বিত রূপ। CSE Electronics Engineering এর একটি Sub-field. বর্তমানে বাংলাদেশের টপ রেটেড যতগুলি সাবজেক্ট রয়েছে CSE তাদের মধ্যে অন্যতম একটি সাবজেক্ট। দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE পড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া National University-তে কমসংখ্যক আসনে CSE পড়ার সুযোগ আছে।
প্রশ্ন নং-০১: মানবিক বা বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা কি CSE পড়তে পারবে?
উত্তর হচ্ছেঃ না। CSE প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে পড়ানো হয়ে থাকে। তাহলে আপনিই বিবেচনা করুন। মেডিক্যালে পড়তে গেলে যেমন সায়েন্স এর স্টুডেন্ট হতে হয় তেমনি প্রকৌশলের সাবজেক্টগুলো পড়তে সায়েন্স লাগে। আপনি যদি SSC এবং HSC সায়েন্স নিয়ে পড়ে থাকেন তবেই আপনি CSE তে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। মানবিক/বাণিজ্য বিভাগ থেকে HSC পাশ করার পরে CSE এর প্রতি টান অনুভব করে থাকলে তাদের জন্যে আমার পরামর্শ থাকবে আপনি ডিপ্লোমা ইন Computer Science/ Computer Engineering এ ভর্তি হন এতে আপনার কয়েকটা বছর বেশি লাগবে ঠিকই তবে নষ্ট হবে না। এরপর আপনি DUET বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে CSE-তে স্নাতক করতে পারবেন।
প্রশ্ন নং-০২: SSC এর পরে CSE পড়া যাবে কি?
CSE হচ্ছে স্নাতক পর্যায়ের একটি প্রোগ্রাম। এটা পড়তে হলে আপনাকে ১২ বছরের শিক্ষা I mean HSC পাশ হতে হবে। তবে SSC পাশ করার পরে ডিপ্লোমা ইন CS/CE করতে পারবেন বিভিন্ন পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে।
প্রশ্ন নং-০৩: CSE পড়তে HSC-তে Mathematics/Higher Math থাকা আবশ্যক কি?
অবশ্যই আবশ্যক। Admission test এর সময়ও ম্যাথ অংশ এটেন্ড করতে হয় CSE পেতে হলে। নন-মেজর হিসেবে ম্যাথেমেটিক্সের কিছু কোর্সও এখানে পড়ানো হয়ে থাকে। প্রোবাবিলিটি, লিনিয়ার এলজেব্রা, জ্যামিতি প্রভৃতি জানা খুবই জরুরি এখানে। ম্যাথ ব্যাতীত আপনি প্রোগ্রামিং এ ভালো কিছু আশা করতে পারবেন না। আর প্রোগ্রামিং হচ্ছে CSE এর কোর বিষয়। একটা ছোট উদাহরণ দেই- সাপোজ আপনার একটা জটিল প্রবলেম সল্ভড করতে হবে এর জন্যে দরকার লজিক ধরে আগানো। এখন আপনি যদি ম্যাথে দুর্বল হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্যে এটা আরো জটিল হয়ে উঠবে। তবে আমি এটা বলছি না আপনাকে CSE এর জন্যে ম্যাথে খুব দক্ষ হতে হবে। Specifically, Math-এর Discrete Mathematics, Differential and Integral Calculus, Method of Integration, Differential Equations, Series, Linear Algebra,Multivariable Calculus, Geometry, Probability এই অংশগুলো ভালো লেগে থাকে বা পরবর্তীতে ভালো লাগাতে পারেন তবে নিঃসন্দেহে CSE আপনার প্রথম চয়েজ হতে পারে।
Video: About CSE Engineering
প্রশ্ন নং-০৪: CSE এর জন্যে HSC তে Physics and Math এ কত পেতে হবে?
মোটামুটিভাবে বলা যায় উভয় বিষয়েই ৩ বা তার বেশি থাকলে CSE তে পড়া যাবে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাদে।
প্রশ্ন নং-০৫: কি কি পড়ানো হয় এখানে?
CSE এর ৪ বছরের সিলেবাসে CSE কোর সাব্জেক্টের সাথে কিছু নন-মেজর সাবজেক্টও পড়ানো হয়ে থাকে সেগুলো আগে দেখা যাক-
Mathematics (Linear Algebra, Matrix, Calculus, Series), Chemistry, Physics (Electrical Circuits), Statistics, Economics etc.
অনেকেই ভাবতে পারেন নন-মেজর সাবজেক্টগুলোর তেমন গুরুত্ব না দিলেও চলবে। কিন্তু এটা একদমই করবেন না। প্রথম থেকে সিরিয়াস থাকবেন প্রত্যেক্টা সাবজেক্টেই। এগুলো আপনার কোর/মেজর সাবজেক্টগুলোর জন্যে যে কতটা সহায়ক সেটা ৩য়/৪র্থ বর্ষ থেকে সারাজীবন বুঝতে পারবেন।
এবার আসা যাক মেজর হিসেবে আপনি কি কি বিষয়ে বস হতে চলেছেন সেগুলো নিয়ে আলোচনা করার-
Computer Architecture and Organization, Computer System Engineering, Processor Design, Operating Systems, High-performance Computing, Parallel Processing, Computer Networks, Theory of Computation, Design and Analysis of Algorithms, Data Structures, Database Systems, Embedded Systems, Software Engineering, Digital Electronics, Digital Logic, Digital System, Electronic Devices and Circuits এবং অবশ্যই Programming। CSE অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের কোন সীমা নেই। তবে আশা করি উপরিউক্ত বিষয়গুলোর সাথে আপনার পরিচয় হবে CSE জীবনে।
প্রশ্ন নং-০৬: CSE কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয় বাংলাদেশে?
বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশে CSE এবং BBA পড়ানো হয় না এমন বিশ্ববিদ্যালয় টর্চ জ্বলেও খুঁজে পাওয়া যায় না। কথা টা পুরোপুরিই সত্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় মানেই CSE দিয়ে হাতেখড়ি, আর পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তো আছেই। তাই CSE পড়ার সুযোগ প্রচুর এদেশে। যদি প্রাইভেটে CSE পড়তে চান তবে আমার পরামর্শ হবে AUST, BRAC, AIUB, EWU, NSU, IUB, UIU, DIU. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে CSE এবং খরচ সম্পর্কিত পোস্ট পরবর্তীতে পাবেন।
প্রশ্ন নং-০৭: CSE কেন?
১। CSE তে আপনি কম্পিউটারের সফটওয়্যার এবং হার্ডোয়্যারেদক্ষ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২। CSE তে ভালো রেজাল্ট আর কোয়ালিটি অর্জন করতে পারলে শিক্ষাকতা করার সুযোগ।
৩। Facebook, Google, Microsoft, NASAএর মত প্রভৃতি স্বপ্নময় স্থানে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
৪। CSE ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ।
৫। প্রোগ্রামিং এ নিজেকে স্যাটিস্ফাইড করার সুযোগ। প্রোগ্রামিং এ দক্ষ হলে জুনিয়র প্রোগ্রামার, সিনিয়র প্রোগ্রামার, Project Manager, System Analyst, Researcher হিসেবে কাজ করার সুযোগ। আর প্রোগ্রামিং না জেনেও Quality Assurance Engineer, UI/UX Designer, Research Analyst, Operation Executive, IT Support Executive, Documentation Writer, IT Executive, DBA Administrator, Network Engineer, Tech Writer, Telecommunication sector-এ রয়েছে কাজ করার সুযোগ।
৬। CSE পড়ে Freelancing এর অনেক বড় বড় সেক্টরে নিজেকে পোঁছানোর সুযোগ। অনেকেই শুনে থাকবেন সার্টিফিকেট ছাড়াও প্রোগ্রামিং এ দক্ষ থাকলে অনেক উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব আর হ্যাঁ কথাটি ১০০% সত্য। Freelancing বর্তমানে বাংলাদেশের ট্রেন্ডিং একটা সেক্টর হয়ে উঠেছে।
৭। CSE-তে পড়ে অন্যান্য জেনারেল প্রায় সকল চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
৮। আর Bank, BCS তো রয়েছেই। তবে আমি বলবো, যাদের BANK/BCS এর ইচ্ছা তারা যেন দয়া করে CSE-র একটি মহামূল্যবান সিট নষ্ট না করেন।
প্রশ্ন নং-০৮: CSE ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন অনেক কম?
নিচে আপনি CSE ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের নমুনা দেখতে পাচ্ছেন। তো আপনার কি মনে হয় এরকম CSE ইঞ্জিনিয়ার-রা কেমন স্যালারি পেয়ে থাকবেন? বিষয়ডা হাইস্যকর নাকি!

Picture: Computer Science and Engineering Salary and Income
CSE থেকে প্রতিবছর প্রচুর শিক্ষার্থী বের হয় তাই জব সেক্টরে অনেক কম্পিটিশন ফেইস করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি আপনি প্রকৃত স্কিলড হয়ে থাকেন তবে আপনার পাল্লা অবশ্যই ভারি হবে। তাই আপনার most and foremost duty হতে হবে নিজেকে স্ট্রং অ্যান্ড স্কিলড করে তোলা। CSE থেকে আপনি যে কি পরিমাণ আর্ন করতে পারবেন তার একজ্যাক্ট ফিগার বলা আসলেই মুশকিল। তবে আপনি যে না খেয়ে থাকবেন না সে গ্যারান্টি দিতে পারি।
ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এভারেজে একজন CSE/IIT ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশে ৩৮,৭৮০টাকা পার Month আয় করে থাকেন। overall university থেকে পাশ করা CSE ইঞ্জিনিয়ার-রা প্রতিমাসে এভারেজে ৩০,০০০ টাকা আয় করে থাকেন। এছাড়াও দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। আর দেশের বাইরে CSE ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন কেমন সেটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। পরবর্তীতে Country wise ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন নিয়ে পোস্ট আসবে, সাথে থাকবেন আশা করি। এভারেজস্যালারিসার্ভে.কম অনুযায়ী বাংলাদেশের ৪টা হাইগেইন্ড স্যালারির সেক্টর রয়েছে CSE ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে।
আমার মতে স্যালারির কথা না ভেবে নিজের স্কিল ডেভেলপড করুন। নিজেকে ভবিষ্যতের জন্যে প্রস্তুত করুন। দেশ ও জাতির কল্যাণে অংশগ্রহণ করুন। আজকের পোস্ট যদি আপনার ডিসিশন মেকিং এ একটু হলেও কাজে আসে তবেই আমাদের প্রচেষ্টা সফল। আর হ্যাঁ CSE সম্পর্কিত আর কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন; সাথে CSE নিয়ে আপনার যদি কোনোরকম রিউমার বা গল্প থেকে থাকে তা শেয়ার করতে ভুলবেন না, সবার কমেন্টে রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। শেয়ারের মাধ্যমে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন। আর ইউনিকোয়েরি-কে সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
Subscribe Youtube channel: SUSCRIBE
Our Facebook Page: LIKE
Join Our Facebook Group: JOIN
পরিশেষে, আপনাদের সবাইকে শুভ কামনা জানিয়ে আজকের পোস্টটি শেষ করছি। ধন্যবাদ।
☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛
Post 01: Computer Science and Engineering (CSE) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং – Read Now
Post 02: Electrical and Electronic Engineering (EEE) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল – Read Now
Post 03: Architecture (আর্কিটেকচার/স্থাপত্য.) – Read Now
Post 04: Engineering (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং/পুরকৌশল) – Read Now
Post 05: Mechanical Engineering (মেকানিক্যাল ইঞ্জিঃ/ যন্ত্রকৌশল) – Read Now