এক সময় আকাশে উড়ার বিষয়টি মানুষের কাছে শুধু স্বপ্ন ছিল। মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ১৯০৩ সালে। সেই ইতিহাস সবারই জানা। সেই অর্থে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বয়স ১০০ বছর হয়ে গেছে। বয়স যতই হোক, এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় বিষয়ের মধ্যে একটি। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মূলত বিমানের গঠন, উৎপাদন এবং পরিচালনার বিষয়গুলো পড়ানো হয়। যাত্রীবাহী বিমান থেকে শুরু করে মহাকাশের নভোযানেগুলোর তৈরির কৌশল সবই এই বিভাগের অন্তর্গত। আর তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে এটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আশা করা যায় সবাই বুঝবেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এই Subject-টি এখনও সদ্য জন্মপ্রাপ্ত শিশুর মত। অনেকেই হয়তো এই বিষয়টির নাম এখনো শোনেই নি। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম MIST, ২০০৯ সাল থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চালু করে। চালু করার প্রধান কারণ ছিল বাংলাদেশের Aviation সেক্টরে যে অনগ্রসরতা, তা কাটিয়ে উঠা।

আপনারা একটা কথা শুনলে অবাক হবেন যে, বোয়িং বাংলাদেশের ডিসি-১০ বিমান উনাদের জাদুঘরে রাখবার জন্য চেয়েছে। কারণ এই ডিসি-১০ বিমান বিশ্বজুড়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর দ্বারা আপনারা সহজেই বাংলাদেশের Aviation সেক্টরের অবস্থা উপলব্ধি করতে পারবেন। তাই দেশের  সেক্টরকে যারা সমৃদ্ধ করতে চান, আকাশকে যারা সঙ্গী হিসেবে পেতে চান, তারা এই বিভাগে Most Welcome.

Subject-টি মূলত ২ ভাগে বিভক্ত। একটি Aerospace অপরটি Avionics. এই দুটি Discipline নিয়ে সংক্ষেপে নিচে বর্ণনা করা হয়েছেঃ

Aerospace: Aerospace Engineering-এ বিমানের মেকানিক্যালের অংশ নিয়ে পড়ানো হয়। এই বিভাগের আলোচ্য বিষয়গুলো হচ্ছেঃ

  1. Aerospace Propulsion
  2. Applied & High-Speed Aerodynamics
  3. Aerospace Vehicle Design
  4. Rotorcraft Performance
  5. Weapons Engineering
  6. Aircraft Structural Design
  7. Aircraft Loading & Structural Analysis
  8. Space Engineering etc.

 

Avionics: Avionics-এ বিমানের ইলেক্ট্রিক্যাল অংশ পড়ানো হয়। এই বিভাগের আলোচ্য বিষয়গুলো হলঃ

  1. Avionics Engineering
  2. Radar Engineering
  3. Satellite Communication
  4. Optoelectronics
  5. Microwave Engineering
  6. Aero-measurement & Instrumentation
  7. Guidance, Navigation & Control, etc.

 

অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ে আপনি মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল সহ প্রায় সব ইঞ্জিনিয়ারিং-এরই স্বাদ পাবেন, কারণ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং “প্রায় সবকিছু” নিয়ে আলোচনা করে থাকে।

বিশ্বের প্রায় ৬২টি দেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। এ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হল China, USA, UK, Russia, Italy, Germany, Canada.

এশীয় দেশগুলোর মধ্যে China ও India তে সবচেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। এছাড়াও Japan, Indonesia, Korea, Malaysia প্রভৃতি দেশ সমূহে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।

বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর চাহিদা খুবই বেশি। বাংলাদেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের স্বল্পতার কারণেই  কোম্পানিগুলো বর্তমানে বাইরের ইঞ্জিনিয়ারদের দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। তাই এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা  কোম্পানিগুলোতে চাকরি নিতে পারবেন। এছাড়াও দেশের বাইরের  কোম্পানিগুলোতেও চাকরি করতে পারবেন। আর একটি কথা অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা হচ্ছেন বিশ্বের “Most Highly Paid” ইঞ্জিনিয়ার। একটি উদাহরণ দিলে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন, NASA-তে ১ জন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক বেতন 97,411 USD এবং বোয়িং-এ বার্ষিক বেতন 70,023 USD যা বাংলাদেশী টাকায় কত হতে পারে তা আপনারা হিসেব করে দেখুন! আর দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোতে বেতন অন্যান্য ইঞ্জিনিইয়ারিং শাখার তুলনায় মোটামুটি বেশ ভালো অঙ্কেরই বলা চলে।

একটা প্রশ্ন সবার মনে আসতেই পারে যে, বাংলাদেশে যেহেতু অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নেই তাহলে এই বিষয়টি পড়াচ্ছেন কারা? এই প্রশ্নের উত্তরে যা বলা যায়, MIST- অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির Faculty Member হচ্ছেন Bangladesh Air Force    এর ইঞ্জিনিয়াররা এবং এই বিভাগকে আরও সমৃদ্ধ করতে Indian Air Force এর ২ জন ইনস্ট্রাক্টর এখানে কর্মরত আছেন।

তাই আকাশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাইলে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

Now Choice is Yours!

 

 

Subscribe Youtube channel: SUSCRIBE  

Our Facebook Page: LIKE  

Join Our Facebook Group: JOIN  

পরিশেষে, আপনাদের সবাইকে শুভ কামনা জানিয়ে আজকের পোস্টটি শেষ করছি। ধন্যবাদ।

☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛

Post 01: Computer Science and Engineering (CSE) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং – Read Now

Post 02: Electrical and Electronic Engineering (EEE) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল – Read Now

Post 03: Architecture (আর্কিটেকচার/স্থাপত্য.) – Read Now

Post 04: Engineering (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং/পুরকৌশল) – Read Now

Post 05: Mechanical Engineering (মেকানিক্যাল ইঞ্জিঃ/ যন্ত্রকৌশল) – Read Now