বন্ধু, কি করিস?

মোবাইলে গেমস খেলি।

কি গেমস দেখি? মজার তো! কোন ওয়েবসাইট থেকে নামাইসিস?

আমি বানাইসি।

কি! সত্যি?

হুম, আর কত অন্যের বানানো গেমস খেলবো? এখন আমার গেমস সবাই খেলবে।

হ্যাঁ ঘটনাটি সত্যি। এরকম চমৎকার অনুভুতি জন্ম দিতে পারে যে সাবজেক্টটি তা হল আইটি।

আমাদের পাশের দেশ ভারত বর্তমানে এশিয়ায় সফটওয়্যার রপ্তানিতে শীর্ষে। আমাদের দেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশকেও এই ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যে প্লাটফর্ম দরকার ছিলো তা দেশে সর্বপ্রথম চালু করলো IIT (Institution of Information Technology) DU. IIT-থেকেই প্রথম দেশের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সার্টিফিকেটধারি (BSc in Software Engineering- BSSE) মানে আপনি পাশ করলে আপনার প্রথম পরিচয় হবে আপনি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আইটি পড়তে হলে অবশ্যই কিছু জিনিস আপনার মাঝে লালন করতে হবে। সৃজনশীল মানসিকতা, ধৈর্য, সাধনা, চেষ্টা এবং চিন্তাশক্তি।

প্রথম ভালোবাসা হোক প্রোগামিং। প্রোগামার যেভাবে বলবেন কম্পিউটার সেভাবেই কাজ করতে বাধ্য। শুধু ঘরে বসে আউটসোর্সিং করে বড়লোক হওয়াই আপনার উদ্দেশ্য নয়। আপনার চিন্তা থাকবে আপনি প্রোগামিং শিখতে চাচ্ছেন কারণ বাংলাদেশ যখন চন্দ্রযান পাঠাবে তার নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম লিখবেন আপনি , বা আপনি ছোট্ট একটা রোবট বানাতে চান যেটা আপনার টুকিটাকি কাজ করে দিবে। আপনি চান লক্ষকোটি টাকা দামে বিদেশ থেকে আনা জীবন রক্ষাকারী মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট কম খরচে দেশে বসেই তৈরি করতে। আপনি এমন একজন এক্সপার্ট হতে চান যিনি বিভিন্ন কলকারখানা অটোমেটেড করে ফেলতে পারেন, অথবা আপনি চান কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করতে…(এই তালিকা অনেক বড় হতে পারে)।

অনেকেই আছেন যারা হয়তোবা এসব মোটিভেশন থেকেই এক বসায় সারারাত Code করে কাটিয়ে দেন। ল্যাব থেকে বের হতে হতে রাত ৬টা-৭টা বেজে গেলেও এটাই স্বাভাবিক- এমন প্রস্তুতিই নিবেন। পুরো বছর ধরেই কোনো না কোনো প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট চলতে থাকে। যেমন ACM-ICPC Contest ( https://www.facebook.com/ICPCNews ), DUITS, IUT National Contest, BUET CSE Week etc. বিভিন্ন ভার্সিটির স্টুডেন্টদের সমন্বয় এবং নিজেকে যাচাই করা, অন্য কোনো সাবজেক্টে পড়লে এভাবে সম্ভবপর হয়না।

এখন যদি আপনাকে প্রশ্ন করা যায় গুগল কিভাবে লাখ লাখ ওয়েবসাইট থেকে চোখের পলকে দরকারি ডাটা খুঁজে এনে আপনাকে দেয়? আপনি কি উত্তর দিবেন? উত্তর দেবার জন্য আপনাকে ভাবতে হবে, ভাবার ইচ্ছে থাকতে হবে, আপনার ধৈর্য থাকতে হবে। হ্যাঁ এটা যদি আপনার থাকে, আপনাকে আইটিতে স্বাগতম। এরকম অনেক এলগরিদম নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা একটা কাজ নিয়ে পরে থাকার মতো প্যাশন থাকতে হবে। নতুন নতুন আইডিয়া মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাওয়াতে হবে। বের করে নিয়ে আসতে হবে বেস্ট এর মধ্যে বেস্ট আইডিয়াটা। একটা আইডিয়া আপনার জীবনের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে। Microsoft Imagine Cup, Banglalink Grandmaster, Robi Challenge এরকম কিছু আইডিয়া seeking campaign.

মুখস্থ বিদ্যা নিয়ে এই সাবজেক্টে খুব বেশি দূরে যাওয়া যায় না। স্টেপ স্টেপ এ Logic and Innovation অ্যাপ্লাই করতে হবে। কারো যদি গণিত, পদার্থ ভালো লাগে তার জন্য আইটিতে ভালো করা সহজ হয়ে যায়। আপনার রেজাল্ট যদি খারাপও থাকে কিন্তু আপনি যদি Creative and Passionate হোন, আপনাকে কেউ আটকাতে পারবেনা; এটা যেকোনো আইটি স্টুডেন্ট এর কাছে গ্যারান্টি পাবেন। এজন্যই মনে হয় ভার্সিটি জীবনে গিয়ে বড় ভাইদের কাছ থেকে প্রথম Bill Gates এর কথাটাই শুনা যায় “I failed in some subjects in exam, but my friend passed in all. Now he is an engineer in Microsoft and I am the owner of Microsoft.

ফেসবুক কিভাবে এত মানুষের তথ্য সংরক্ষণ করে? এলোমেলো ভাবে সংরক্ষণ করলে তাড়াতাড়ি খুঁজে পাওয়া সমস্যা, তাই তথ্য সংরক্ষণ করার নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক আছে। এজন্য রয়েছে ডাটাস্ট্রাকচার ও ডাটাবেস।

অ্যানিমেটেড মুভিতে বা গেমসে আমরা যে এতো সুন্দর ছবি দেখি তার জন্য রয়েছে গ্রাফিক্স। কিভাবে মোবাইলে Communication, Computer Communication, মেইল আদান-প্রদান, Facebook- এ মেসেজে চালাচালি এসবের জন্য নেটওয়ার্কিং।

বিভিন্ন Co-curricular Activities অংশ নিতে পারেন। Microsoft Bangladesh এর নানা কার্যক্রমে আপনি অংশগ্রহণ করতে পারবেন Microsoft Student Partner হবার মধ্য দিয়ে। BASIS সফটওয়্যার মেলার আয়োজন করে, ওখানে Volunteer হতে পারবেন। বিভিন্ন International Journal এ আপনার Research Paper পাঠাতে পারেন। Accepted হলে উনারা আপনাকে তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাবেন। Google apps-এ আপনার বানানো apps store করতে পারেন।

দেশে প্রথম Microsoft তাদের Windows Phone এর জন্য apps তৈরির আয়োজন করেছিলো, যেখানে একদিনে ৮০টির বেশি apps তৈরি হয়েছিলো এবং Venue ছিলো IIT DU. বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্কার বিজয়ে নাফিস কিন্তু একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। অনেকের প্রশ্ন থাকে আইটি সেক্টরে জব কেমন? এখন আইটির যুগ। সবার মুখে মুখেই এই কথা শোনা যায়। আপনি কাজ জানলে আপনার জব খোঁজা লাগবেনা, জব আপনাকে খুঁজবে। Giant Organization যেমন Microsoft, Google-এ আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা গর্বের সাথে জব করছেন। Google, Samsung এরা প্রায়ই Campus-এ এসে Recruitment এর আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশে অনেক প্রতিষ্ঠিত আইটি ফার্ম রয়েছ, অনেক মোবাইল কোম্পানি, অনেক Multinational IT firm আছে।

আপনার আগ্রহ থাকলে ফ্রীল্যান্সার হতে পারবেন। প্রতিষ্ঠিত এরকম অনেক ফ্রীল্যান্সার উদাহরণ আপনার আশেপাশেই রয়েছে। নিজের আইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন। গাজীপুরে আইটি ভিলেজ হতে চলছে। দেশের বাইরে চলে যেতে পারবেন।

নিজের আগ্রহের বিষয়ে (Programming, Web design, Networking, Database Developer, Freelancing..) দক্ষতা অর্জন করা প্রথম কাজ। So, জব নিয়ে পরে চিন্তা করলেও হবে। ইন্টারমিডিয়েটে আইটি সাবজেক্ট পড়ানো শুরু হয়েছে তা সবাই জানেন।

কিছু প্রশ্ন অনেকের মনে চলে আসে IT আর ICT কি একই? এক কথায় উত্তর দিলে একই।  JU-তে বর্তমানে IIT আছে, RU-তে ICT; তবে Degree কি রকম তা জানা নেই।

মূল প্রশ্ন হলো এটাঃ IT আর CSE এর মধ্যে পার্থক্য কি? বিদেশে অনেক আগে থেকেই কম্পিউটার সাইন্স আর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং দুটি আলাদা শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের দেশে ধারণাটি নতুন। CSE-এর কাজ হচ্ছে CS Tools গুলোকে ডেভেলপ করা আর IT এর কাজ হচ্ছে CS Tools গুলোকে প্রপারলি Utilize করা (একটু কঠিন মনে হচ্ছে!) IT is a special stream of CSE. জানা মতে IT আর CSE জমজ ভাই। একজনের জন্ম আগে, একজনের পরে।

এখন IIT DU আর CSE DU দিয়ে হাল্কা ধারণা দেয়া যাকঃ

IIT-এর বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে আপনার নরমাল Course গুলোর সাথে আলাদা কিছু Specialized Course করতে হবে। যেখানে সফটওয়্যার প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করতে হবে, Simply সফটওয়্যার বানাতে হবে ( পুরো ৬ মাস+ ৬ মাস= ১২ মাস) IIT এর আর একটি বিশেষ দিক (যেটার কথাও CSE এর অনেকেই বলেন) হচ্ছে আপনাকে ৬ মাস Industry তে জব (Interne) করতে হবে (With Salary) এটা Course এরই অংশ। কিছু শিক্ষার্থীরা ওখানেই Join করে ফেলেন, ফলে ৪র্থ বর্ষ-এর ক্লাস করতে আসতে চান না। তাদের স্যারেরা জোর করে ধরে নিয়ে আসেন।

IT আর CSE এর Course গুলো অধিকাংশই মিল আছে। ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে বিস্তারিত দেয়া আছে ( http://www.iit.du.ac.bd/index.php?id=48 ) IT-তে অন্যান্য কোর্সের পাশাপাশি SE-কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

গত বছর DU ক List এ IT 2nd fiilup হয়ে গিয়েছিলো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম এবং ল্যাব তো আছেই (Multimedia, Document camera system and Internet facilities)। ল্যাবে ডাউনলোড স্পিড পাওয়া যায় ৪-৫ এমবিপিএস যেটা অনেকের কল্পনার বাইরে। আমরা যারা দুষ্ট তার LAN-এ বসে বসে FIFA, Need For Speed খেলি। আমরা কিন্তু গতবারের  ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন আর বাস্কেটবল রানার্স আপ। অনেক কোম্পানি প্রায়ই এখানে সেমিনার আয়োজন করে থাকে। যারা ঢাকায় থাকেন তারা চাইলে DU-তে মুকাররম ভবনে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে এমনকি স্যারদের সাথেও কথা বলে যেতে পারেন। You are most welcome.

সব শেষে একটা কথা বলা। যে সাবজেক্ট নিয়েই পড়েন না কেন, তা সম্পর্কে আগে খোঁজ নিন কি কি পড়ানো হয় এবং যদি সেগুলো সত্যিই আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলেই সেই সাবজেক্ট এ ভর্তি হোন। কোনটা ১ নম্বর সাবজেক্ট, কোনটা ২ নম্বর, এটার চেয়ে ওটা ভালো এভাবে বিচার না করে, সেটাই ভালো সাবজেক্ট যেটা আপনার কাছে ভালো এভাবে চিন্তা করুন। মানুষের তৈরি এই বিভাজন অনুসরণ করে নিজের সাথে প্রতারণা করবেন না।