বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছেই ইউআরপি অচেনা একটি বিষয় এবং খুব স্বাভাবিক ভাবেই তথাকথিত পেছনের দিকের একটা বিষয়। কিন্তু আসলেই দেখা যাক বিষয়টিতে কি পড়ানো হয় বা এর ভবিষ্যত কি রকম?

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়টি মূলত পুরকৌশল, স্থাপত্য বিদ্যা এবং সামাজিক বিজ্ঞানের সংমিশ্রণ; কি অদ্ভুত মনে হচ্ছে? আসলে আমাদের দেশে স্থপতিরা স্থাপনার নকশা করেন, পুরকৌশলীরা সে স্থাপনা নির্মাণ করেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে সে স্থাপনাগুলো কোন নগরের জন্য উল্লেখ্যযোগ্য কোন ভূমিকা রাখছে কি না বা সে সকল স্থাপনাগুলোর আদৌ কোন দরকার আছে কিনা বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি নগরের এবং নাগরিকদের কি কি দরকার সেটা দেখা হয় না। সেজন্যেই বাইরের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও পরিকল্পনা বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিকল্পনা বিষয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এখন দেখা যাক এ বিষয়ে কি কি পড়াশোনা করতে হয়? প্রথমত পুরকৌশলের প্রাথমিক কিছু কোর্স করানো হয়। পাশাপাশি স্থাপত্যবিদ্যা নিয়েও বেশ ঘাটাঘাটি করতে হয়। এ বিভাগে পড়তে হলে কিছু আকাআকির হাতটা ভালো হলে সুবিধা হয়, নাহলে ও তেমন একটা অসুবিধা হয়না। কারণ পরবর্তীতে কম্পিউটার সফটওয়্যার নিয়ে প্রচুর কাজ করতে হয়, যেমন- গ্রাফিক্সের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যার, জিআইএস, ত্রিমাত্রিক কাজ ইত্যাদি করতে হয়। এছাড়াও প্ল্যানিং শিক্ষার নিজস্ব কিছু কোর্স রয়েছে যার মাধ্যমে শেখা যায় কিভাবে সামগ্রিকভাবে বড় পরিসরে নগর, নাগরিক এবং দেশের জন্য পরিকল্পনা করা যায়।

এ বিষয়ের সবচেয়ে ডায়নামিক দিকটি হল চাইলে কেউ কারিগরি দিকেও কাজ করতে পারেন অর্থাৎ প্রকৌশলীদের সাথে বা সামাজিক ক্ষেত্রেও উন্নয়নের কাজ করতে পারবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চাকরির বাজারে এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েটদের মূল্য কতটুকু? পরিকল্পনা বিষয়ে এ দেশে গ্র্যাজুয়েটদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে এ বিষয় সম্পর্কে অনেকেই অবগত না। তাহলে বলা রাখা ভাল যে, বর্তমানে দেশে পরিকল্পনাবিদদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং আগামীতে আরও বাড়বে।

চাকরির ক্ষেত্র হলঃ এনজিও, বিভিন্ন কন্সট্রাকশন ফার্ম, বিভিন্ন কন্সাল্টেসী ফার্ম ইত্যাদি। সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি মহানগরের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, প্রত্যরকটি পৌরসভা এবং পরিকল্পনা কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদের আসনে আসীন হতে পারবেন।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা রয়েছে। কেউ চাইলেই পুরকৌশলের এবং স্থাপত্যবিদ্যার বিভিন্ন শাখার উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবেন। এ বিষয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি করার ক্ষেত্রে ফান্ডিংও বেশ ভালো পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে দক্ষ পরিকল্পনাবিদের চাহিদা প্রচুর।

শেষ কথাঃ কারো যদি দুর্ভাগ্যক্রমে (!!) এ বিষয়ে ভর্তি হতে হয় তবে মন খারাপ করবেন না। আপনার ভবিষ্যৎ আসলেই ভালো হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় কখনো থেমে থাকতে হবেনা। যারা যারা কারিগরি এবং ক্রিয়েটিভ শিক্ষার অদ্ভুত এক মেলবন্ধনে নিজেকে বাধতে চান তাদেরকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে স্বাগতম।

 

 

Subscribe Youtube channel: SUSCRIBE  

Our Facebook Page: LIKE  

Join Our Facebook Group: JOIN  

পরিশেষে, আপনাদের সবাইকে শুভ কামনা জানিয়ে আজকের পোস্টটি শেষ করছি। ধন্যবাদ।

☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛☛

Post 01: Computer Science and Engineering (CSE) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং – Read Now

Post 02: Electrical and Electronic Engineering (EEE) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল – Read Now

Post 03: Architecture (আর্কিটেকচার/স্থাপত্য.) – Read Now

Post 04: Engineering (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং/পুরকৌশল) – Read Now

Post 05: Mechanical Engineering (মেকানিক্যাল ইঞ্জিঃ/ যন্ত্রকৌশল) – Read Now