একটা পরীক্ষা দিয়ে ২৪টা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ, শুনতে সহজ। কিন্তু বাস্তবে গুচ্ছ ভর্তিতে প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থী আটকে যান একটা কারণে: পরীক্ষার পরের ধাপটা তাঁরা জানেন না। এই গাইডে GST Admission-এর পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সাজানো, আবেদন করা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্ট পাওয়া পর্যন্ত।
সূচিপত্র
GST Admission আসলে কী
GST মানে General, Science and Technology university cluster. দেশের ২৪টি সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটাই ভর্তি পরীক্ষা নেয়, আলাদা আলাদা নয়। শিক্ষার্থীর জন্য এর সুবিধাটা বড়: এক পরীক্ষার প্রস্তুতি, এক আবেদন ফি, আর দেশজুড়ে ঘুরে ঘুরে আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার ধকল নেই।
শাবিপ্রবি, জগন্নাথ, খুলনা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় নামগুলো এই গুচ্ছে আছে। তবে খেয়াল রাখুন, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর আর বুয়েটের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছের বাইরে, তারা নিজেদের পরীক্ষা নেয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন পথে যাচ্ছে সেটা প্রতি বছর কিছুটা বদলায়, তাই বিজ্ঞপ্তির তালিকাটা মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

তিন ইউনিট আর মানবণ্টন
- A ইউনিট (বিজ্ঞান): পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়ন বাধ্যতামূলক থাকে; সাথে গণিত অথবা জীববিজ্ঞান বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, যেটা পরে কোন বিভাগে আবেদন করতে পারবেন তা ঠিক করে দেয়
- B ইউনিট (মানবিক): বাংলা, ইংরেজি আর সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্ন
- C ইউনিট (বাণিজ্য): হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনাসহ ব্যবসায় শিক্ষার বিষয়, সাথে বাংলা-ইংরেজি
পরীক্ষা ১০০ নম্বরের MCQ। ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের সাথে SSC আর HSC-র ফলাফলের নম্বর যোগ করে কেন্দ্রীয় মেধাক্রম তৈরি হয়, তাই বোর্ড পরীক্ষার GPA এখানেও কাজে লাগে। GPA থেকে নম্বর কীভাবে হিসাব হয়, সেটা দেখুন আমাদের GPA হিসাবের নিয়ম পোস্টে।
ভুল উত্তরে নম্বর কাটার নিয়ম আছে; হারটা প্রতি বছরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দেওয়া থাকে, তাই অনুমানের ভরসায় দাগানোর আগে সেটা দেখে নিন। আবেদন ফি সাম্প্রতিক সেশনে ছিল প্রায় ১,৫০০ টাকা, আর্কিটেকচারে আবেদন করলে ২,০০০ টাকা।

আবেদন থেকে ভর্তি: ৬ ধাপ
- প্রাথমিক আবেদন: gstadmission.ac.bd-তে নির্ধারিত সময়ে আবেদন করুন, ইউনিট বেছে নিয়ে
- কেন্দ্র নির্বাচন ও প্রবেশপত্র: নিজের কাছের কেন্দ্র বেছে নিন, তারপর প্রবেশপত্র ডাউনলোড
- ভর্তি পরীক্ষা: ১০০ নম্বরের MCQ, সব গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটাই
- কেন্দ্রীয় ফল ও মেধাক্রম: পরীক্ষার নম্বর আর SSC-HSC-র ফল মিলিয়ে আপনার মেধাক্রম প্রকাশিত হবে
- বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আলাদা আবেদন: এই ধাপটাই আসল। মেধাক্রম পাওয়ার পর আপনি যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, প্রত্যেকটিতে আলাদা করে সাবজেক্ট চয়েস দিয়ে আবেদন করতে হয়, নির্দিষ্ট ফি দিয়ে
- মেধাতালিকা, ভর্তি ও মাইগ্রেশন: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজের তালিকা প্রকাশ করে; ধাপে ধাপে মাইগ্রেশনে অনেকের বিভাগ বদলায়, তাই প্রথম তালিকায় নাম না এলেই হাল ছাড়বেন না
সবচেয়ে বড় ভুলটা
প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী গুচ্ছ পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েও কোথাও ভর্তি হতে পারেন না, কারণ তাঁরা ধরে নেন পরীক্ষা দিলেই বিশ্ববিদ্যালয় নিজে থেকে ডাকবে। ব্যাপারটা তা না। পঞ্চম ধাপের আলাদা আবেদন না করলে আপনার নাম কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতেই উঠবে না। ফল প্রকাশের পর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে নজর রাখুন, কারণ আবেদনের জানালা ছোট হয়।
দ্বিতীয় বড় ভুল হলো অল্প কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা। বাজেটে কুলালে বেশি জায়গায় আবেদন করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ মাইগ্রেশনের ধাপে সুযোগ কোথা থেকে আসবে আগে থেকে বলা যায় না।
গুচ্ছ নাকি নিজস্ব পরীক্ষা
এটা আসলে “নাকি”-র প্রশ্নই না, দুটোতেই আবেদন করা যায় এবং করাই উচিত। গুচ্ছের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, চট্টগ্রাম আর বুয়েটে আলাদা করে আবেদন করলে সুযোগের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ে। গুচ্ছভুক্ত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পুরো অভিজ্ঞতা কেমন, সেটা বুঝতে শাবিপ্রবির রিভিউটা পড়ে নিন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
গুচ্ছে কয়টা বিশ্ববিদ্যালয় আছে?
সাম্প্রতিক সেশনে ২৪টি সাধারণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সংখ্যাটা প্রতি বছর সামান্য বদলাতে পারে, তাই বিজ্ঞপ্তির তালিকা দেখে নিন।
একবার আবেদন করলেই কি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবেচনা করা হয়?
না। প্রাথমিক আবেদন শুধু পরীক্ষায় বসার জন্য। ফল আসার পর প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে আবেদন করতে হয়।
গুচ্ছে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া যায়?
যোগ্যতার শর্ত প্রতি বছরের বিজ্ঞপ্তিতে ঠিক করা হয়। কোন কোন শিক্ষাবর্ষের HSC উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবেন, সেটা সেখানেই লেখা থাকে।
আর্কিটেকচারে আবেদন করলে বাড়তি কী লাগে?
আলাদা ড্রইং বা ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হয় এবং আবেদন ফিও বেশি (সাম্প্রতিক সেশনে ২,০০০ টাকা)।
মাইগ্রেশন কীভাবে কাজ করে?
ওপরের মেধাক্রমের শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিভাগে চলে গেলে নিচের দিকে আসন খালি হয়, আর সেই শূন্য আসনে পরবর্তীদের সুযোগ আসে। এভাবে কয়েক ধাপে তালিকা এগোয়, তাই শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

