জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে “ফরম ফিলাপ” শব্দটা প্রতি বছরই টেনশনের কারণ। কারণ সোজা: ফরম পূরণে ছোট্ট একটা ভুল বা তারিখ মিস করলে পুরো একটা বছর পিছিয়ে যেতে হয়। অথচ প্রক্রিয়াটা আসলে জটিল না, শুধু ধাপগুলো ঠিকঠাক জানা থাকা দরকার। এই গাইডে অনার্স পরীক্ষার ফরম পূরণের পুরো নিয়ম, ফি-র হিসাব আর যেসব ভুলে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা আটকে যান, সব একসাথে।
সূচিপত্র
NU Form Fillup আসলে কী
ভর্তি হওয়া আর পরীক্ষায় বসা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুটো আলাদা ব্যাপার। প্রতি বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে আলাদা করে আবেদন করে নিজের নাম পরীক্ষার্থীর তালিকায় তুলতে হয়, এটাই ফরম ফিলাপ বা ফরম পূরণ। এখানে আপনি ঠিক করে দেন কোন বর্ষের পরীক্ষা দেবেন, কোন কোন বিষয়ে বসবেন, আর আপনি নিয়মিত না অনিয়মিত পরীক্ষার্থী।
মনে রাখার মতো কথা: কলেজে ভর্তি থাকা মানেই পরীক্ষার ফরম পূরণ হয়ে যাওয়া না। এই ধাপটা নিজে থেকে করতে হয়, আর সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সাধারণত কোনো সুযোগ থাকে না।

কারা আবেদন করতে পারবেন
- নিয়মিত পরীক্ষার্থী: যাঁরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে প্রথমবার সেই বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন
- অনিয়মিত পরীক্ষার্থী: আগের বছর কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন বা পরীক্ষা দেননি; শুধু নির্দিষ্ট বিষয়গুলোয় বসবেন
- গ্রেড উন্নয়ন (Improvement): পাস করেছেন কিন্তু ফল ভালো করতে চান; নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করা যায়
- মানোন্নয়ন/বিশেষ পরীক্ষার্থী: বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে শর্ত দেওয়া থাকে
নিজে কোন শ্রেণিতে পড়ছেন সেটা ফরম পূরণের সময় সঠিকভাবে বাছাই করা জরুরি, কারণ ভুল শ্রেণি বাছাই করলে প্রবেশপত্রে বিষয় মেলে না।
ধাপে ধাপে ফরম পূরণের নিয়ম
- নোটিশ দেখুন: nu.ac.bd-র নোটিশ বোর্ডে নিজের বর্ষের ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি বের হয়; সেখানেই তারিখ, ফি আর নিয়ম লেখা থাকে
- অনলাইনে ফরম পূরণ: নির্ধারিত পোর্টালে (যেমন nubd.info/honours) নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ঢুকে তথ্য যাচাই করুন; বিষয়গুলো ঠিকমতো এসেছে কি না মিলিয়ে নিন
- ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট: পূরণ শেষে ফরমটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিন (সাধারণত একাধিক কপি লাগে)
- কলেজে জমা: প্রিন্ট কপি, প্রয়োজনীয় কাগজ আর নির্ধারিত ফি নিয়ে নিজ কলেজের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিন; জমা দেওয়ার রসিদ অবশ্যই রাখুন
- কলেজের নিশ্চিতকরণ: কলেজ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আপনার আবেদন নিশ্চিত (confirm) করলে তবেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়
- প্রবেশপত্র: পরীক্ষার আগে কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করুন এবং বিষয়-কোড আবার মিলিয়ে দেখুন
উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক একটি চক্র: ২০২৬ সালের অনার্স ১ম বর্ষের ফরম পূরণ চলেছিল ১৩ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত, রুটিন প্রকাশ হয় ১০ জুন, আর পরীক্ষা শুরু হয় ২৭ জুলাই থেকে। প্রতিটি বর্ষের (১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ) তারিখ আলাদা, তাই নিজের বর্ষের নোটিশটাই ধরতে হবে।

ফি কত আর কোথায় জমা
ফরম ফিলাপের ফি স্থির কোনো সংখ্যা না, কয়েকটা জিনিসের ওপর নির্ভর করে: কোন বর্ষের পরীক্ষা, কয়টি বিষয়ে বসছেন, আপনি নিয়মিত না অনিয়মিত, আর কেন্দ্র ফি কত। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়ভিত্তিক ফি-র তালিকা দেওয়া থাকে; সাধারণত এর সাথে কেন্দ্র ফি, ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি (যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক আছে) আর কলেজের নিজস্ব ফি যুক্ত হয়।
ফি সাধারণত কলেজেই জমা দিতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি নয়। জমা দেওয়ার সময় রসিদ নিতে ভুলবেন না, পরে কোনো জটিলতা হলে এই রসিদই আপনার একমাত্র প্রমাণ।
যেসব ভুলে পরীক্ষা আটকে যায়
- শেষ দিনের অপেক্ষা: শেষ দিনে সার্ভারে চাপ বাড়ে, সাইট ধীর হয়ে যায়। হাতে অন্তত এক সপ্তাহ রেখে কাজ সারুন
- ভুল বিষয় কোড: অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই ভুল বিষয় বাছাই করেন; প্রিন্ট নেওয়ার আগে প্রতিটি কোড মিলিয়ে নিন
- কলেজে জমা না দেওয়া: শুধু অনলাইনে পূরণ করলেই হয় না, প্রিন্ট কপি ফি সহ কলেজে জমা দিয়ে নিশ্চিত করাতে হয়
- রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ: রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আগে নবায়ন করতে হয়, নইলে ফরম পূরণ করা যায় না
- রসিদ না রাখা: টাকা জমা দিয়েছেন অথচ প্রমাণ নেই, এই পরিস্থিতিতে প্রতি বছর অনেকে বিপদে পড়েন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে দেখুন আমাদের NU ভর্তি গাইড, আর রিলিজ স্লিপের নিয়ম আলাদা করে বুঝতে রিলিজ স্লিপ গাইডটা পড়ুন। ফলাফল বের হওয়ার পর GPA/CGPA-র হিসাব মেলাতে আমাদের সিজিপিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
ফরম ফিলাপ না করলে কি পরীক্ষা দেওয়া যাবে?
না। ফরম পূরণ করে কলেজে জমা না দিলে আপনার নাম পরীক্ষার্থীর তালিকায় উঠবে না, প্রবেশপত্রও আসবে না।
সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে কী করব?
অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় সময় বাড়ায় (কখনো বিলম্ব ফি সহ), তবে সেটা নিশ্চিত কিছু না। দেরি হয়ে গেলে সাথে সাথে নিজ কলেজের দপ্তরে যোগাযোগ করুন, তারাই সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।
এক বিষয়ে ফেল করলে সব বিষয়ে আবার পরীক্ষা দিতে হবে?
না। অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে শুধু যে বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন সেটিতেই ফরম পূরণ করে বসতে হয়।
অনলাইনে পূরণের পর কি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হবে?
না। সব কাগজপত্র নিজ কলেজেই জমা দিতে হয়; কলেজ কর্তৃপক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়।
রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারিয়ে গেলে?
কলেজের মাধ্যমে ডুপ্লিকেট রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করা যায়। ফরম পূরণের মৌসুমের আগেই কাজটা সেরে রাখা ভালো, কারণ এতে সময় লাগে।

