মূল কনটেন্টে যান

ব্যাংকের বিজ্ঞাপনে “মাত্র ৯% সুদে ঋণ” দেখে মাসে ঠিক কত যাবে সেটা কিন্তু বোঝা যায় না। EMI Calculator সেই হিসাবটাই পরিষ্কার করে: ঋণের অঙ্ক, হার আর মেয়াদ বসালেই মাসিক কিস্তি, মোট সুদ আর শেষ পর্যন্ত মোট কত দিচ্ছেন, তিনটাই সামনে চলে আসে।

ফ্রি ফিন্যান্স টুল

EMI / লোন ক্যালকুলেটর

ঋণের অঙ্ক, বার্ষিক সুদের হার আর মেয়াদ বসান, মাসিক কিস্তি আর মোট খরচ দেখে নিন।

মাসিক কিস্তি (EMI)

হ্রাসমান-স্থিতি (reducing balance) পদ্ধতির হিসাব। প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য চার্জ এর বাইরে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. ঋণের অঙ্ক, ব্যাংকের বলা বার্ষিক হার আর মেয়াদ বসান, কিস্তি সাথে সাথেই দেখা যাবে।
  2. মেয়াদ বদলে দেখুন কিস্তি আর মোট সুদ কীভাবে বিপরীত দিকে চলে, সিদ্ধান্তের আসল হিসাবটা ওখানেই।
  3. একাধিক ব্যাংকের অফার তুলনা করার সময় হারটা হ্রাসমান নাকি ফ্ল্যাট, আগে জিজ্ঞেস করে নিন।

বিদেশে পড়ার শিক্ষাঋণ ভাবছেন?

কিস্তির গণিত এখানে একই, তবে পরিকল্পনায় তিনটা বাড়তি প্রশ্ন যোগ করুন: কিস্তি শুরু কবে (অনেক শিক্ষাঋণে পড়াশোনা চলাকালীন শুধু সুদ চলে), ঋণের অনুমোদনপত্র ভিসার আর্থিক প্রমাণ হিসেবে সেই দেশ নেয় কি না, আর পরিশোধ কোন মুদ্রার আয়ে করবেন। দেশভিত্তিক আর্থিক চাহিদার হিসাবগুলো আমাদের কানাডা, UK আর অস্ট্রেলিয়া ক্যালকুলেটরে করা যায়, আর পুরো পরিকল্পনার জন্য আছে বিদেশে উচ্চশিক্ষার গাইড

EMI নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা

EMI কীভাবে হিসাব হয়?

প্রমিত সূত্রে: EMI = P × r × (1+r)^n ÷ ((1+r)^n − 1), যেখানে P ঋণের অঙ্ক, r মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০) আর n মোট মাসের সংখ্যা। বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত এই হ্রাসমান-স্থিতি (reducing balance) পদ্ধতিই ব্যবহার করে।

ফ্ল্যাট রেট আর হ্রাসমান হারের পার্থক্য কী?

বড় পার্থক্য, আর ঋণ নেওয়ার আগে এটা না বোঝাই সবচেয়ে দামি ভুল। হ্রাসমান হারে সুদ হয় বকেয়া স্থিতির ওপর, যা প্রতি কিস্তিতে কমে। ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদ ধরে মূল অঙ্কের ওপর সুদ হয়, তাই একই "৯%" ফ্ল্যাট রেট বাস্তবে হ্রাসমান হিসাবের প্রায় দেড়গুণের বেশি খরচের সমান পড়ে। এই ক্যালকুলেটর হ্রাসমান পদ্ধতির, কোনো অফার ফ্ল্যাট রেটে হলে তুলনার আগে সেটা জেনে নিন।

শিক্ষাঋণের হিসাবেও কি এটা চলবে?

চলবে, কিস্তির গণিত একই। বিদেশে পড়ার জন্য ঋণ নিলে একটা বাড়তি হিসাব মাথায় রাখুন: কিস্তি শুরু কবে থেকে (অনেক শিক্ষাঋণে পড়াশোনা চলাকালীন শুধু সুদ দিতে হয়), আর টাকাটা কোন মুদ্রায় পরিশোধ করবেন। ভিসার আর্থিক প্রমাণে ঋণের অনুমোদনপত্র ব্যবহারের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন, সেটা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের চেকলিস্টে দেখুন।

মেয়াদ বাড়ালে কি লাভ না ক্ষতি?

মাসিক কিস্তি কমে, কিন্তু মোট সুদ বাড়ে, দুটোই একসাথে ঘটে। ক্যালকুলেটরে মেয়াদ বদলে দেখুন: ৫ বছরের জায়গায় ৭ বছর করলে কিস্তি কত কমল আর মোট খরচ কত বাড়ল। নিজের মাসিক সামর্থ্যের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মেয়াদটাই সাধারণত সবচেয়ে সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত।

এই হিসাব কি ব্যাংকের অফারের সাথে হুবহু মিলবে?

মূল কিস্তির অঙ্ক মিলবে, তবে প্রসেসিং ফি, স্ট্যাম্প খরচ আর বিমার মতো এককালীন খরচ ব্যাংকভেদে যোগ হয়, সেগুলো এই হিসাবের বাইরে। ঋণের কার্যকর মোট খরচ তুলনা করার সময় ওই ফিগুলোও জিজ্ঞেস করে নেবেন।

UniQuery-এর ফ্রি EMI ক্যালকুলেটর

কিস্তির হিসাব পড়ার নিয়ম: শুধু EMI দেখবেন না

৫ লাখ টাকা, ৯% হারে, ৫ বছরে কিস্তি পড়ে মাসে ১০,৩৭৯ টাকা, শুনতে সামলানোর মতোই। কিন্তু ভাঙা হিসাবে তাকালে দেখবেন মোট সুদ প্রায় ১,২৩,০০০ টাকা, মানে আসলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বাড়তি। মেয়াদ ৭ বছর করলে কিস্তি নামবে ৮,০৪৫-এ, কিন্তু মোট সুদ বেড়ে হবে প্রায় ১,৭৫,৮০০। এই বিনিময়টাই ঋণের আসল সিদ্ধান্ত: মাসের চাপ কমাতে গেলে মোট খরচ বাড়ে। ক্যালকুলেটরে মেয়াদ বদলে বদলে নিজের সহনসীমার সবচেয়ে ছোট মেয়াদটা খুঁজে নিন।

ফ্ল্যাট রেটের ফাঁদ: একই “৯%” সমান নয়

কিছু প্রতিষ্ঠান হার বলে ফ্ল্যাট রেটে, যেখানে পুরো মেয়াদ ধরে মূল অঙ্কের ওপর সুদ হয়। শুনতে এক মনে হলেও ৯% ফ্ল্যাট আসলে হ্রাসমান হিসাবের প্রায় ১৬%-এর কাছাকাছি খরচের সমান, কারণ আপনি যে টাকা প্রতি মাসে ফেরত দিয়েই দিচ্ছেন তার ওপরেও সুদ গুনছেন। এই ক্যালকুলেটর ব্যাংকের প্রচলিত হ্রাসমান-স্থিতি পদ্ধতির, তাই কোনো অফার তুলনার আগে জিজ্ঞেস করুন হারটা কোন পদ্ধতির। ঋণ ও সুদহারের নিয়ন্ত্রক তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইট দেখতে পারেন।

ঋণ নেওয়ার আগের চেকলিস্ট

কিস্তির হিসাব হাতে নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার আগে চারটা প্রশ্নের উত্তর টুকে নিন: হারটা হ্রাসমান না ফ্ল্যাট, প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য এককালীন খরচ কত, আগাম পরিশোধে (early settlement) জরিমানা আছে কি না, আর হারটা স্থির নাকি বাজারের সাথে বদলাবে। চারটার উত্তর মিলিয়ে তবেই দুটো অফারের সত্যিকারের তুলনা হয়, শুধু EMI-র অঙ্ক মিলিয়ে নয়।

শিক্ষাঋণ নিয়ে ভাবছেন? EMI Calculator-এর পরের ধাপ

বিদেশে পড়ার খরচ মেটাতে শিক্ষাঋণ এখন অনেক পরিবারের বাস্তব পথ। কিস্তির গণিত এখানেও একই, তবে তিনটা প্রশ্ন আগে মিটিয়ে নিন: কিস্তি শুরু কবে থেকে (অনেক শিক্ষাঋণে পড়াশোনা চলাকালীন শুধু সুদ চলে), ঋণের অনুমোদনপত্র সেই দেশের ভিসায় আর্থিক প্রমাণ হিসেবে চলে কি না, আর ফেরত দেবেন কোন মুদ্রার আয়ে। দেশভিত্তিক ভিসার আর্থিক চাহিদা হিসাব করতে আমাদের কানাডা, UK আর অস্ট্রেলিয়া ক্যালকুলেটর আছে, আর সঞ্চয়ের দিকটা বুঝতে মুনাফা ক্যালকুলেটর